অ্যানফিল্ডে উত্তপ্ত পরিস্থিতির মুখে ম্যানচেস্টার সিটি
রোববার লিভারপুলের বিপক্ষে খেলতে অ্যানফিল্ডে নামার সময় ম্যানচেস্টার সিটি এমন বিষাক্ত ও বৈরী পরিবেশের মুখোমুখি হবে, যা তারা আগে কখনো অনুভব করেনি। প্রিমিয়ার লিগের আর্থিক নিয়ম ভঙ্গের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর যদি সিটি কোনো মাঠে নামতে না চাইত, তবে লিভারপুলের মাঠ অ্যানফিল্ড হতো তালিকার শীর্ষে।
গত এক দশকের বেশি সময় ধরে এই দুই ক্লাবের মধ্যে সম্পর্ক বেশ তিক্ত। লিভারপুল সমর্থকদের ধারণা, সিটির বদলে প্রিমিয়ার লিগের আরও কয়েকটি শিরোপা তাদের প্রাপ্য ছিল। ২০১৩-১৪, ২০১৮-১৯ এবং ২০২১-২২ মৌসুমে লিভারপুল সিটির পেছনে থেকে দ্বিতীয় হয়েছিল। পেপ গার্দিওলা এবং ইয়ুর্গেন ক্লপ দায়িত্বে থাকার সময় এই দ্বৈরথ আরও তীব্র রূপ নেয়। সিটির বিপুল আর্থিক ক্ষমতার কারণেই তারা এসব শিরোপা থেকে বঞ্চিত হয়েছে বলে মনে করেন লিভারপুল সমর্থকরা। বিপরীতে, গার্দিওলার দলের অসাধারণ নৈপুণ্যের দিকেই আঙুল তোলেন সিটি সমর্থকরা।
সিটির নতুন প্রধান কোচ এনজো মারেসকা তার দলের নির্দোষ হওয়ার দাবির মধ্যেই অ্যানফিল্ডে পা রাখছেন। তারা স্বাধীন কমিশনের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছে। প্রিমিয়ার লিগের শীর্ষস্থানে থাকলেও, ক্লাবের ভবিষ্যৎ শাস্তি এবং আপিল প্রক্রিয়া নিয়ে পুরো মৌসুম জুড়েই এক অনিশ্চয়তার ছায়া ঝুলে আছে। সিটির শাস্তির বিষয়টি প্রিমিয়ার লিগের পুরো মৌসুমের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। পয়েন্ট কাটা, নির্বাসন বা অবনমনের মতো বড় শাস্তির সম্ভাবনা থাকায় এই মৌসুমের গুরুত্ব নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
এই তিক্ততার মধ্যেই সিটি তাদের প্রথম লিগ ম্যাচে নামছে। অ্যানফিল্ডের দর্শক সবসময়ই সিটির প্রতি বিরাগ প্রদর্শন করে এসেছে, যা এখন আরও বাড়বে। এই পরিস্থিতি নিয়ে মারেসকা জানান, “আমি এই ক্লাবের মালিক, সিইও এবং স্পোর্টিং ডিরেক্টরের ওপর ১০০ শতাংশ আস্থা রাখি। আমাদের লক্ষ্য জয় পাওয়া।”
সিটির দাবি অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে আনা কমিশনের রায়ে আইনি ও তথ্যের ক্ষেত্রে গুরুতর ভুল ছিল। অন্যদিকে, কমিশন সিটির বিরুদ্ধে ৯০০ মিলিয়ন পাউন্ডেরও বেশি অর্থ কৃত্রিমভাবে দেখানোর জন্য ‘ভুয়া’ চুক্তি করার অভিযোগ করেছে।
সাবেক ইংলিশ স্ট্রাইকার অ্যালান শিয়ারার বলেন, “এত বড় একটি ইস্যুর পরিণতি জানতে অপেক্ষা করতে হচ্ছে, যা দেখতে খুবই খারাপ লাগছে। প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে এমন কিছু আগে ঘটেনি। লিভারপুলের মতো মাঠ থেকেই প্রতিটি ক্লাবের ক্ষোভের প্রতিফলন দেখা শুরু হবে।”
লিভারপুলের প্রধান কোচ আন্দোনি ইরাওলা বলেন, “সবচেয়ে খারাপ বিষয় হলো অনিশ্চয়তা। কেউ জানে না কী ঘটবে। আমাদের মনোযোগ লিভারপুলের ওপর এবং সেরাটা দেওয়ার ওপর।”
অ্যানফিল্ডের চারপাশের উত্তেজনা মাথায় রেখে মার্সিসাইড পুলিশ প্রয়োজনীয় নিরাপত্তার পরিকল্পনা করেছে। ২০১৮ সালে চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের আগে সিটির টিম বাসে হামলার ঘটনা ঘটেছিল। ফলে মারেসকা ও তার দলের জন্য অ্যানফিল্ডের এই সফর মানসিক ও শারীরিক পরীক্ষার মুখে পড়তে যাচ্ছে।
