পেনাল্টি শুটআউটে ইন্টার মিলানের কাছে হার দিয়ে শুরু এনজো মারেস্কার ম্যানচেস্টার সিটি অধ্যায়
এনজো মারেস্কার নেতৃত্বাধীন ম্যানচেস্টার সিটি-র নতুন যাত্রা শুরু হলো হারের মধ্য দিয়ে। শনিবার হংকংয়ের কাই তাক স্টেডিয়ামে ৪২,২৮৬ জন দর্শকের উপস্থিতিতে প্রীতি ম্যাচে ইন্টার মিলানের কাছে পেনাল্টি শুটআউটে পরাজিত হয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি।
২০২৩ চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে মুখোমুখি হওয়া এই দুই দল নির্ধারিত ৯০ মিনিটের লড়াইয়ে ১-১ সমতা বজায় রাখে। এরপর পেনাল্টি শুটআউটে ক্রিস্টিয়ান চিভুর ইতালীয় দলটি ৩-১ ব্যবধানে জিতে আসাহি সুপার ড্রাই ট্রফি নিজেদের করে নেয়। তবে নতুন কোচের অধীনে ম্যানচেস্টার সিটির পারফরম্যান্স ছিল বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক এবং ইতিবাচক।
ম্যাচের ১৪তম মিনিটে সিটির আক্রমণ থেকে প্রথম গোলটি আসে। এন্টনি সেমেনিয়ো বাম প্রান্ত দিয়ে বল নিয়ে এগিয়ে গিয়ে ডিভিনের উদ্দেশ্যে পাস বাড়ান। সেখান থেকে ডিভিন মুবামা খুব কাছ থেকে গোল করে ম্যানচেস্টার সিটিকে এগিয়ে দেন।
ম্যাচের প্রথমার্ধে সেমেনিয়ো দুর্দান্ত ফর্মে ছিলেন। গোল করার পরপরই তিনি ব্যবধান বাড়ানোর কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন। তিনি ইন্টারের বেশ কয়েকজন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে এগিয়ে গেলেও ইন্টার গোলরক্ষক জোসেপ মার্টিনেজ তার শট ঠেকিয়ে দেন।
তবে সিটির এই লিড বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। সেমেনিয়োর সেই সুযোগ হাতছাড়ার কয়েক মিনিট পরেই সমতায় ফেরে সেরি আ চ্যাম্পিয়নরা। জামাল ইদ্রিসুর একটি ক্রস সিটির রক্ষণভাগকে ফাঁকি দিয়ে বেঞ্জামিন পাভার্ডের কাছে পৌঁছায়। ডি-বক্সের প্রান্ত থেকে নেওয়া শটে পাভার্ড গোল করে দলকে সমতায় ফেরান।
বিরতির পর দলে ব্যাপক পরিবর্তনের পরেও দ্বিতীয় অর্ধে সিটির খেলার ধার অব্যাহত ছিল। ভিতোর রেইস একটি শট গোলবারের ওপরের অংশে আঘাত করেন এবং প্রতিভাবান কিশোর উইঙ্গার রায়ান ম্যাককাডু ১৮ গজ দূর থেকে একটি শট গোলপোস্টে মারেন। এরপর ফিরতি আরেকটি প্রচেষ্টা গোলপোস্টের পাশ দিয়ে বাইরে চলে যায়।
নির্ধারিত সময়ে ফলাফল না আসায় ম্যাচ গড়ায় পেনাল্টি শুটআউটে। সেখানে রায়ান আইত-নৌরি, আবদুকাদির খুসানভ এবং নিকো গঞ্জালেজ গোল করতে ব্যর্থ হন। শুধু ক্লাউদিও এচেভেরি সিটির হয়ে গোল পান। ফলে প্রাক-মৌসুমের এই ম্যাচে ইন্টার মিলান ট্রফি জয় করে।
মারেস্কার শিষ্যরা এখন সিউলের উদ্দেশ্যে রওনা হবে, যেখানে কে-লিগ অল স্টারস এবং অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলার কথা রয়েছে।
মারেস্কোর যুগে ম্যানচেস্টার সিটি খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সের মূল্যায়ন নিচে দেওয়া হলো।
একাদশ খেলোয়াড়
জিয়ানলুইজি ডনারুমা – ৬/১০
প্রথমার্ধে তাকে কিছুটা অস্বস্তিতে দেখা গেছে। যদিও যখন প্রয়োজন হয়েছে তখন ভালো সেভ করেছেন, তবে ৪৫ মিনিট বল পায়ে নিয়ে তিনি বেশ কিছুটা নার্ভাস ছিলেন।
রিকো লুইস – ৫.৫/১০
ম্যানচেস্টার সিটির জার্সিতে এটি তার সেরা পারফরম্যান্স ছিল না। তিনি ইন্টারের ডি মার্কো এবং বাম প্রান্তের খেলোয়াড়দের পুরোপুরি আটকাতে ব্যর্থ হয়েছেন।
আবদুকাদির খুসানভ – ৭/১০
তিনি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ট্যাকল করেছেন। মৌসুমের শুরুতে প্রথম একাদশে জায়গা করে নেওয়ার জন্য তিনি নিজেকে ভালোভাবেই দাবিদার হিসেবে প্রমাণ করেছেন।
জস্কো গভার্দিওল – ৭/১০
খুসানভের মতোই তিনি খেলার শুরুতে কয়েকবার ইন্টারের আক্রমণ প্রতিহত করেছেন এবং মিডফিল্ডে বল সরবরাহ করে সিটিকে এগিয়ে নিতে সাহায্য করেছেন।
স্টিফেন এমফুনি – ৬/১০
রক্ষণভাগের দায়িত্বে তাকে কিছুটা অস্বস্তিতে দেখা গেলেও, আক্রমণে উঠে নিকো ও’রিলির সঙ্গে বেশ ভালো বোঝাপড়া গড়ে তুলেছিলেন এবং এন্টনি সেমেনিয়োর সঙ্গে ভালো সমন্বয় বজায় রেখেছিলেন।
মাতেও কোভাচিচ – ৬/১০
মিডফিল্ড ট্রয়োর অংশ হিসেবে তিনি খেলা নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি, যার ফলে ইন্টারের খেলোয়াড়রা সহজেই তাদের মাঝমাঠ ভেদ করে এগিয়ে গেছে।
তিজানি রেইনডার্স – ৬/১০
আক্রমণে কোনো বিশেষ হুমকি তৈরি করতে পারেননি, রক্ষণভাগেও তাকে খুব একটা উজ্জ্বল দেখা যায়নি। ক্লাব ছাড়ার গুঞ্জনের মধ্যে মারেস্কাকে নিজের সামর্থ্য প্রমাণ করার জন্য এটি ছিল খুবই গড়পড়তা একটি ম্যাচ।
ফিল ফোডেন – ৬/১০
ইন্টার তাকে কড়া মার্কিংয়ে রেখেছিল, তাই কোনো জাদু দেখানোর জায়গা পাননি। সিউলের প্রীতি ম্যাচে তাকে আরও ভালো খেলতে হবে, কারণ মারেস্কা ফোডেনের সেরা রূপটি দেখতে চান।
সাভিনিও – ৬.৫/১০
নতুন সাজের সিটির আক্রমণভাগে ডান প্রান্তে তাকে উজ্জ্বল দেখা গেছে। দলবদলের বাজারে টটেনহ্যামের সঙ্গে তার নাম জড়িয়েছে, যত বেশি তিনি এভাবে নিজেকে মেলে ধরবেন ততই টটেনহ্যাম তাকে নিতে আগ্রহী হবে।
ডিভিন মুবামা – ৭/১০
প্রথম গোলের সময় সঠিক সময়ে সঠিক জায়গায় ছিলেন। ডি-বক্সের গভীরে গিয়ে ডিফেন্ডারদের টেনে মিডফিল্ডারদের জন্য জায়গা তৈরি করে দিয়েছেন। ইত্তিহাদ স্টেডিয়ামে মারেস্কোর অধীনে প্রথম গোলদাতা হিসেবে এই পারফরম্যান্স তাকে আত্মবিশ্বাসী রাখবে।
এন্টনি সেমেনিয়ো – ৮/১০ (ম্যাচসেরা)
অসাধারণ পারফরম্যান্স, তার খেলা নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই।
বদলি খেলোয়াড়
ম্যাক অ্যালি – ৬/১০
নিকো গঞ্জালেজ – ৬/১০
ভিতোর রেইস – ৬.৫/১০
রায়ান ম্যাককাডু – ৭/১০
রায়ান আইত-নৌরি – ৬.৫/১০
কাডেন ব্রেথওয়েট – ৬/১০
ক্লাউদিও এচেভেরি – ৬.৫/১০
মাহামাদৌ সাঙ্গারে – ৬.৫/১০
