নিউ ইয়র্কে প্যাডেল খেলার সময় সাক্ষাৎ ম্যানচেস্টার সিটি ও পিএসজি প্রধানের
-
ম্যানচেস্টার সিটির চেয়ারম্যান খালদুন আল মুবারক ও পিএসজি প্রেসিডেন্ট নাসের আল-খেলাইফিকে প্যাডেল খেলতে দেখা গেছে।
-
ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালের আগে নিউ ইয়র্ক সিটিতে ফুটবল বিশ্বের এই দুই শীর্ষ নির্বাহী মিলিত হন।
-
এই ছবিটি বড় ধরনের ক্রীড়া ইভেন্টের পর্দার আড়ালে চলা যোগাযোগ ও নেটওয়ার্কিংয়ের একটি झलक তুলে ধরেছে।
ম্যানচেস্টার সিটির চেয়ারম্যান খালদুন আল মুবারক এবং প্যারিস সেন্ট-জার্মেই (পিএসজি)-এর প্রেসিডেন্ট নাসের আল-খেলাইফিকে নিউ ইয়র্ক সিটিতে প্যাডেল খেলার পর একসঙ্গে দেখা গেছে। ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালকে সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে ইউরোপীয় ফুটবলের অন্যতম শক্তিশালী এই দুই ব্যক্তিত্বের দেখা হওয়ার ঘটনাটি বেশ গুরুত্ব পেয়েছে।
টুর্নামেন্টের শেষ পর্যায়ে খালদুন আল মুবারক নিউ ইয়র্কে উপস্থিত ছিলেন। ম্যানচেস্টার সিটির চলমান দলবদল এবং ক্লাবের পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সামলানোর পাশাপাশি উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক ফুটবলের এই বড় আসরেও তিনি সমানভাবে সক্রিয় ছিলেন।
নাসের আল-খেলাইফি, যার মালিকানাধীন ক্লাব প্যারিস সেন্ট-জার্মেই-এর প্রতিনিধিরা এবারের গ্রীষ্মে ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে, তিনি বিশ্ব ক্লাব ফুটবলের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব। গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে পার্ক দে প্রিন্সেসে তার নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো ইউরোপীয় ফুটবলের চিত্র বদলে দিয়েছে এবং ফুটবলের শীর্ষ মহলে তার সম্পর্কের জাল অত্যন্ত বিস্তৃত।
How Man City officials Khaldoon Al Mubarak and Ferran Soriano have reacted to Enzo Maresca appointment
ছবিতে দেখা যায়, প্যাডেল সেশনের পর তারা দুজনে আরও একজনের সঙ্গে রয়েছেন। আধুনিক ফুটবলে চ্যাম্পিয়নস লিগের লড়াই থেকে শুরু করে পছন্দের খেলোয়াড়দের দলে নেওয়ার ক্ষেত্রে দুই ক্লাবের মধ্যে প্রায়ই প্রতিযোগিতা লক্ষ্য করা যায়। সেই প্রেক্ষাপটে এই অনানুষ্ঠানিক সাক্ষাৎটি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ফুটবলের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মধ্যে প্যাডেল খেলা একটি জনপ্রিয় সামাজিক মাধ্যম হয়ে উঠেছে। খেলাটির সহজলভ্যতা এবং প্রতিযোগিতামূলক আমেজ বোর্ডরুমের আনুষ্ঠানিকতা ও ট্রান্সফার মার্কেটের চাপের বাইরে কর্মকর্তাদের মধ্যে সুসম্পর্ক তৈরির একটি স্বাভাবিক পরিবেশ তৈরি করে দেয়।
বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে আল মুবারক ও আল-খেলাইফির সাক্ষাৎ
নিউ ইয়র্কে বিশ্বকাপ ফাইনাল শুরুর আগে তোলা এই ছবিটি প্রমাণ করে যে, বড় ধরনের ক্রীড়া ইভেন্টগুলো শুধু খেলোয়াড় বা দর্শকদের জন্যই নয়, বরং ফুটবলের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের জন্য একে অপরের সাথে যোগাযোগের একটি মিলনস্থলে পরিণত হয়।
আল মুবারকের ক্ষেত্রে, এবারের গ্রীষ্মে ম্যানচেস্টার সিটির লক্ষ্য নিয়ে দেওয়া বক্তব্যগুলো থেকে স্পষ্ট যে, এনজো মারেসকার নিয়োগ এবং ইতিহাদ স্টেডিয়ামে দলের পুনর্গঠন নিয়ে তিনি কতটা গুরুত্বের সঙ্গে পরিকল্পনা করছেন। নিউ ইয়র্কে তার উপস্থিতি প্রমাণ করে যে, ক্লাবের ইতিহাসের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সময়ে তিনি নিজে তদারকি করছেন।
অন্যদিকে, পিএসজির প্রেসিডেন্ট আল-খেলাইফি বিশ্বকাপের ফাইনাল সপ্তাহে এমন এক সময়ে উপস্থিত হয়েছেন, যখন তার দেশের প্রতিনিধিরা এই আসরের চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। পাশাপাশি, ট্রান্সফার মার্কেটেও পিএসজি বেশ সরব রয়েছে।
এই দুই ব্যক্তিত্বের মধ্যেকার বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ মনে করিয়ে দেয় যে, ফুটবলের শীর্ষ কর্মকর্তারা একটি ছোট ও ঘনিষ্ঠ বৈশ্বিক বলয়ের মধ্যে কাজ করেন। বিশ্বকাপের মতো বড় আসরের সুযোগে তাদের এই অনানুষ্ঠানিক সাক্ষাতের প্রভাব সামাজিক সম্পর্কের গণ্ডি পেরিয়ে পেশাদার ফুটবলেও প্রভাব ফেলতে পারে।
“We know what we want” – Man City chairman issues major summer transfer window update
দুই ফুটবল নেতার সাক্ষাতে কী বার্তা মিলল?
এই ছবিটি অনেক প্রশ্নের জন্ম দিলেও তার কোনোটিই স্পষ্ট নয়—যেমন তারা কি ট্রান্সফার সংক্রান্ত বিষয় বা বাণিজ্যিক স্বার্থ নিয়ে আলোচনা করেছেন, নাকি উচ্চ চাপের সিদ্ধান্ত নেওয়ার দৈনন্দিন জীবন থেকে কিছুটা স্বস্তি পেতে সময় কাটিয়েছেন?
তবে এটি নিশ্চিত যে, এই গ্রীষ্মের এই বিশেষ মুহূর্তে নিউ ইয়র্কে আল মুবারকের উপস্থিতি কাকতালীয় নয়। ম্যানচেস্টার সিটির ট্রান্সফার কার্যক্রম এখনও বিভিন্ন দিকে সক্রিয়। অ্যাটাকিং লাইন শক্তিশালী করা থেকে শুরু করে নতুন মৌসুমের প্রস্তুতির আগে খেলোয়াড়দের ভবিষ্যতের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া এখনও বাকি রয়েছে।
যিনি মারেসকার নিয়োগের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং ব্রিটিশ ট্রান্সফার রেকর্ডের মাধ্যমে দলের পুনর্গঠন শুরু করেছেন, তার কাছে এই ক্রীড়া ইভেন্টটি ভবিষ্যতের ব্যবসার সম্পর্ক বজায় রাখার একটি বড় সুযোগ।
আল মুবারক এবং আল-খেলাইফির এই বৈঠকের কোনো প্রভাব ম্যানচেস্টার সিটির পরবর্তী ব্যবসায়িক সিদ্ধান্তে পড়বে কি না, তা নিয়ে কেবল জল্পনা করা সম্ভব। তবে ফুটবলের দুনিয়ায় ক্লাব নির্বাহীদের পারস্পরিক সম্পর্ক যে বড় বড় চুক্তির ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখতে পারে, তা এই ছবি থেকেই স্পষ্ট।
