লিভারপুলকে হারিয়ে অ্যানফিল্ড থেকে তিন পয়েন্ট নিয়ে ফিরল ম্যানচেস্টার সিটি
লিভারপুলের মাঠে আজ ৩-০ গোলের জয় তুলে নিয়ে পূর্ণ পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছেড়েছে ম্যানচেস্টার সিটি। দ্বিতীয়ার্ধে আর্লিং হালান্ড, জেরেমি ডোকু এবং রায়ান চেরকির গোলে সিটির এই জয় নিশ্চিত হয়। এনজো মারেস্কার দল সব ধরনের বাইরের আলোচনা সরিয়ে রেখে লিভারপুলকে পেছনে ফেলে জয় নিশ্চিত করে। ম্যাচটির ৬২ মিনিটে রায়ান গ্রাভেনবার্চ দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে লিভারপুল দশজনের দলে পরিণত হয়। ম্যানচেস্টার সিটির এই জয়ের পর অ্যানফিল্ডের ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। সিটির ১১৫টি অভিযোগের রায় নিয়ে আপিল চলাকালীন প্রিমিয়ার লিগ এক প্রহসনে পরিণত হয়েছে বলে অনেকে মনে করছেন। কিছু মহলে দাবি উঠেছে, সাধারণ মানুষকে শান্ত করতে আইনি প্রক্রিয়ার কিছু ধাপ এড়িয়ে যাওয়া উচিত, যা বিভিন্ন কারণে বেশ হাস্যকর।
অ্যানফিল্ডে এনজো মারেস্কার শিষ্যরা নিজেদের কাজটা ঠিকঠাক করেছেন। তারা লিভারপুলকে পরাজিত করে তিন পয়েন্ট অর্জন করেছেন। বর্তমানে প্রিমিয়ার লিগের পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে রয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি, যারা এখন পর্যন্ত ছয় ম্যাচের সবকটিতে জয় পেয়েছে। সিটির এই জয়ের পর অনলাইনে যে প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে, তা বেশ কৌতূহলপূর্ণ।
১১৫টি অভিযোগের আইনি প্রক্রিয়াটি কোনো চাপের মুখে বা ‘সততা’ রক্ষার নামে এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়, যদিও অনেক ক্ষেত্রে সেই স্বচ্ছতা আগেই প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। প্রিমিয়ার লিগের আর্থিক নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগে ম্যানচেস্টার সিটি প্রিমিয়ার লিগ কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করেছে। কোনো নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার আগে বা সিটি নিজেদের নির্দোষ প্রমাণ করে অভিযোগগুলো ভুল প্রমাণ করার আগেই এই আপিল প্রক্রিয়ার নিষ্পত্তি হওয়া প্রয়োজন। ম্যানচেস্টার সিটি শুরু থেকেই বলে আসছে, প্রিমিয়ার লিগ কমিশনের ‘মতামতের’ বিরুদ্ধে তাদের কাছে অকাট্য প্রমাণ রয়েছে। এর আগে উয়েফা যখন সিটিকে আর্থিক নিয়ম ভঙ্গের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেছিল, তখনও কোর্ট অব আরবিট্রেশন ফর স্পোর্ট সিটির নাম অভিযোগ থেকে মুক্ত করেছিল। ১১৫টি অভিযোগের এই ঘটনাটি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছাতে এখনও অনেক সময় বাকি।
আজ লিভারপুলের বিপক্ষে সিটির জয়ের পর অনেকেই চাইছেন আইনি প্রক্রিয়ার ধাপগুলো এড়িয়ে দ্রুত শাস্তি দেওয়া হোক। কিন্তু যদি সেই শাস্তি পরে বাতিল হয়ে যায় এবং ম্যানচেস্টার সিটি আপিলে জিতে যায়, তবে ক্ষতিপূরণের জন্য বিশাল আইনি লড়াইয়ের সম্ভাবনা তৈরি হবে। এতে পরিস্থিতি বর্তমানের চেয়েও জটিল আকার ধারণ করতে পারে। অবশ্য প্রিমিয়ার লিগের বর্তমান প্রক্রিয়ায় যে ত্রুটি রয়েছে, তা অস্বীকার করার উপায় নেই।
ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার রায়টি ফাঁস হওয়া তার মধ্যে অন্যতম। এছাড়া, দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, আর্সেনাল, টটেনহ্যাম এবং লিভারপুল অন্য ১৫টি ক্লাবের আগেই এই রায়ের বিষয়ে জানতে পেরেছিল। সুতরাং, ১১৫টি অভিযোগের বর্তমান প্রক্রিয়ায় বেশ কিছু সমস্যা রয়েছে। তবে আইনি প্রক্রিয়ার ধাপগুলো এড়িয়ে যাওয়া কোনো সমাধান নয়।
যদি ম্যানচেস্টার সিটি আজ লিভারপুলের কাছে হেরে যেত, তবে অনেকে হয়তো সেটাকে ইংলিশ ফুটবলের ‘জয়’ হিসেবে দেখত। কিন্তু বাস্তবে তা ঘটেনি। এনজো মারেস্কার দল লিভারপুলকে হারিয়েছে এবং সিটির সমর্থকরা এই জয়কে উদ্যাপন করেছে। অ্যানফিল্ডের এই ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে তৈরি হওয়া প্রতিক্রিয়া বেশ উপভোগ্য।
প্রিমিয়ার লিগ কমিশনের ‘মতামতের’ বিরুদ্ধে আপিল করার পূর্ণ অধিকার ম্যানচেস্টার সিটির রয়েছে। এই আপিল যথাযথ নিয়মেই চলতে হবে। অনেকে হয়তো বিষয়টি পছন্দ করছেন না, কিন্তু এটিই প্রতিষ্ঠিত নিয়ম। ফুটবলের সমর্থকরা সিটির বিরুদ্ধে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার রায় নিয়ে আনন্দ প্রকাশ করলেও, এখন আবার ‘প্রিমিয়ার লিগের স্বার্থে’ বিচার চেয়ে প্রক্রিয়ার পরিবর্তন চাইছেন। এই পরিবর্তন কোনো পক্ষকেই সুফল দেবে না। এমন একটি সম্ভাবনাও রয়েছে যেখানে সিটি আপিলে জয়ী হতে পারে। তাই আপাতত ক্ষোভ প্রকাশ করা চললেও, আইনি প্রক্রিয়াটি তার নিজস্ব গতিতেই সম্পন্ন হওয়া উচিত। বিষয়টি অত্যন্ত সহজ।
