টানা দুই বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুট জয়ী কিলিয়ান এমবাপে
২০২৬ সালের বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়ে অনন্য এক রেকর্ড গড়েছেন কিলিয়ান এমবাপে। ফুটবল ইতিহাসে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে টানা দুই বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুট জয়ের কৃতিত্ব অর্জন করলেন ফরাসি এই ফরোয়ার্ড।
আট ম্যাচে ১০টি গোল করে লিওনেল মেসিকে পেছনে ফেলে তীব্র লড়াইয়ে শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছেন এমবাপে।
এর আগে কাতার ২০২২ বিশ্বকাপে আট গোল করে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছিলেন এমবাপে।
২৭ বছর বয়সী এই তারকা ১৯৭০ সালে পশ্চিম জার্মানির জার্ড মুলারের পর প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপের এক আসরে দুই অঙ্কের গোল সংখ্যায় পৌঁছালেন।
একক টুর্নামেন্টে এমবাপের চেয়ে বেশি গোল করেছেন মাত্র দুইজন—১৯৫৮ সালে ফ্রান্সের হয়ে ১৩ গোল করা জাস্ট ফন্টেইন এবং ১৯৫৪ সালে ১১ গোল করা হাঙ্গেরির স্যান্ডর কোকসিস।
সব মিলিয়ে বিশ্বকাপে ২২টি গোল নিয়ে মেসিকে পেছনে ফেলে পুরুষদের ফুটবল ইতিহাসে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা এখন এমবাপে।
ব্রোঞ্জ পদক নির্ধারণী ম্যাচে শনিবার দুই গোল করে আর্জেন্টাইন তারকা মেসিকে ছাড়িয়ে যান তিনি। যদিও তার দল ফ্রান্স শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ডের কাছে ৬-৪ গোলে হেরে চতুর্থ স্থানে থেকে টুর্নামেন্ট শেষ করে।
এমবাপে গ্রুপ পর্বে সেনেগাল ও ইরাকের বিপক্ষে জোড়া গোল করেন, সেইসাথে শেষ ৩২-এর লড়াইয়ে সুইডেনের বিপক্ষেও গোল পান। এরপর শেষ ১৬-তে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে পেনাল্টি থেকে ৭০ মিনিটে জয়সূচক গোল এবং কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোর বিপক্ষেও গোল করেন তিনি।
রবিবার বিশ্বকাপের ফাইনালে হ্যাটট্রিক করলে রিয়াল মাদ্রিদ ফরোয়ার্ড এমবাপেকে টপকে যাওয়ার সুযোগ ছিল মেসির সামনে।
তবে ৩৯ বছর বয়সী এই তারকা নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিত ফাইনালে কোনো গোল করতে পারেননি। তার দল আর্জেন্টিনা স্পেনের কাছে ১-০ গোলে পরাজিত হয় এবং মেসি আট ম্যাচে আট গোল নিয়ে টুর্নামেন্ট শেষ করেন।
তালিকায় এরপর রয়েছেন নরওয়ের আর্লিং হালান্ড ও ইংল্যান্ডের জুড বেলিংহাম, যারা প্রত্যেকে সাতটি করে গোল করেছেন। ফরাসি ফরোয়ার্ড উসমান ডেম্বেলে এবং ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেন ছয়টি করে গোল করেছেন।
গোল্ডেন গ্লাভ – উনাই সিমন (স্পেন)
স্পেনের গোলরক্ষক উনাই সিমন সেরা গোলরক্ষকের পুরস্কার ‘গোল্ডেন গ্লাভ’ জিতেছেন। আট ম্যাচে তিনি গোল খেয়েছেন মাত্র একটি।
২৯ বছর বয়সী এই অ্যাথলেটিক ক্লাব গোলরক্ষক সাতটি ম্যাচে ক্লিনশিট রেখেছেন। টুর্নামেন্টে কেবল কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের চার্লস ডি কেটেলারে তার বিপক্ষে গোল করতে সক্ষম হন।
আর্সেনালের হয়ে প্রিমিয়ার লিগ শিরোপাজয়ী ডেভিড রায়ার পরিবর্তে কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে এক নম্বর গোলরক্ষক হিসেবে উনাই সিমনের ওপরই আস্থা রেখেছিলেন। কোচের সেই আস্থার প্রতিদান দিয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে স্পেনকে চ্যাম্পিয়ন করতে বড় ভূমিকা রেখেছেন সিমন।
