আর্সেনালের শিরোপা জয়ের টার্নিং পয়েন্ট জানালেন মিকেল মেরিনো
২০২৫/২৬ প্রিমিয়ার লিগ মৌসুমে আর্সেনাল কখন শিরোপা নিশ্চিত করেছিল, তা নিয়ে ভক্তদের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন মত রয়েছে। কেউ কেউ বার্নলির বিপক্ষে ১-০ গোলের জয়ের মুহূর্তটিকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন। আবার অনেকে লিয়ান্দ্রো ট্রোসার্ডের গোল কিংবা ওয়েস্ট হ্যামের গোল ভিএআর-এর মাধ্যমে বাতিলের ঘটনাকে শিরোপা জয়ের চাবিকাঠি হিসেবে দেখেন। এমনকি ম্যানচেস্টার সিটির এভারটনের বিপক্ষে ৩-৩ ড্র করার ম্যাচটিকেও অনেকে এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত করেন।
তবে আর্সেনালের মিডফিল্ডার মিকেল মেরিনোর মতে, শিরোপা জয়ের মূল টার্নিং পয়েন্ট ছিল ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬। উলভসের সাথে ২-২ ড্র করার ঠিক পরের দিনটিই ছিল সেই মাহেন্দ্রক্ষণ।

মেরিনো সেই ম্যাচের স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘সবাই বলছিল এটি সেই চিরচেনা আর্সেনাল। সত্যি বলতে, দলের ভেতরেও তখন সংশয় ছিল। ২-০ এগিয়ে থেকেও ড্র করাটা মেনে নেওয়া কঠিন ছিল।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘ম্যাচটির পরদিন কোচ মিকেল আরতেতাকে ছাড়াই খেলোয়াড়রা ড্রেসিংরুমে একটি বৈঠকে বসেন। সেখানে সবাই নিজেদের কথা তুলে ধরেন। ট্যাকটিকসের চেয়েও বড় বিষয় ছিল প্রতিকূল পরিস্থিতিতে একটি দল হিসেবে কীভাবে টিকে থাকা যায়।’
মেরিনোর ভাষায়, ‘আমি তখন বলেছিলাম যে, এই পরিস্থিতি আমাদের খেলোয়াড়দেরই সামলাতে হবে, কারণ কোচ সব সময় সব কিছু করতে পারেন না। আমার মতে, সেই দিনটিই আমাদের শিরোপা জিতিয়েছিল।’

তিন মাস পর যখন আর্সেনাল শিরোপার খুব কাছে, তখন ম্যানচেস্টার সিটির পয়েন্ট হারানোর অপেক্ষায় ছিল গানাররা। মেরিনো জানান, ওই দিন প্রশিক্ষণের সময় থাকলেও কোচ মিকেল আরতেতা তা পিছিয়ে দেন যাতে পুরো দল একসাথে সিটির ম্যাচটি দেখতে পারে।
‘আমরা প্রায় শতাধিক মানুষ ডাইনিং হলে ছিলাম। স্টাফ, রাঁধুনি থেকে শুরু করে সবাই মিলে ম্যাচটি দেখছিলাম। বোর্নমাউথের গোলে আমি উত্তেজিত হয়ে হাঁটতে বেরিয়ে গিয়েছিলাম। আর যখন সিটির ম্যাচ শেষ হলো, তখন পুরো ডাইনিং হলের পরিবেশটাই বদলে গেল—চিৎকার, আলিঙ্গন আর শ্যাম্পেনের উল্লাসে ভরে উঠল চারপাশ,’ বলেন মেরিনো।

