আটলান্টায় মেসির জাদুতে হার মানল ইংল্যান্ড, ফাইনালে আর্জেন্টিনা
আটলান্টায় ৮৪ মিনিট পর্যন্ত ইংল্যান্ডের স্বপ্নের ফাইনাল নিশ্চিত মনে হচ্ছিল। টমাস টুখেলের ট্যাকটিক্যাল সেটআপে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা বেশ চাপে পড়ে গিয়েছিল। ৫৫ মিনিটে মর্গান রজার্সের বাড়ানো বলে অ্যান্থনি গর্ডন গোল করলে ইংল্যান্ডের জয়ের পথ প্রশস্ত হয়। কিন্তু এরপরই সব বদলে দেন লিওনেল মেসি।
ম্যাচের ৮৫ মিনিটে মেসির পাস থেকে এনজো ফার্নান্দেজ দূরপাল্লার শটে গোল করে সমতা ফেরান। এরপর ৯৩ মিনিটে বদলি খেলোয়াড় লাউতারো মার্টিনেজ গোল করে আর্জেন্টিনাকে নাটকীয় জয় এনে দেন। এই জয়ে আর্জেন্টিনা রবিবার স্পেনের মুখোমুখি হবে, আর ইংল্যান্ড বিদায় নিয়েছে বিশ্বকাপ থেকে।
আর্জেন্টিনা বনাম ইংল্যান্ড ম্যাচে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স
অ্যাস্টন ভিলার এই গোলরক্ষক ইংল্যান্ডের আক্রমণের মুখে খুব বেশি পরীক্ষায় পড়েননি। পেনাল্টি এরিয়ায় তিনি নিজের আধিপত্য বজায় রেখেছিলেন, তবে গর্ডনের গোলটি ঠেকানোর মতো অবস্থায় তিনি ছিলেন না।
ম্যাচটি রাইট-ব্যাক পজিশনে খেলা এই খেলোয়াড়ের জন্য ছিল হতাশাজনক। ইংল্যান্ডের গোলের সময় তিনি কিছুটা অমনোযোগী ছিলেন, যার সুযোগ নিয়ে গর্ডন গোল করেন। ৭১ মিনিটে তাকে তুলে নেওয়া হয়।
টটেনহ্যামের এই ডিফেন্ডারকে কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ খেলতে দেখা গেছে। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে তিনি হলুদ কার্ড দেখেন। তবে হ্যারি কেনকে আটকে রাখতে তিনি তার শারীরিক শক্তি ব্যবহার করেছেন।
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের এই ডিফেন্ডার ইংল্যান্ডের সরাসরি আক্রমণের মুখে বেশ ধুঁকেছেন। প্রথমার্ধে প্রতিপক্ষের পাল্টা আক্রমণ থামাতে গিয়ে তিনি হলুদ কার্ড দেখেন। ক্লান্ত মনে হওয়ায় ম্যাচ শেষ হওয়ার আগেই তাকে মাঠ থেকে তুলে নেওয়া হয়।
নিকোলাস তাগলিয়াফিকো (ডিফেন্ডার) – ৫/১০
তিনি রক্ষণভাগে একটি বড় ভুল করেছেন। গর্ডনের গোলের শুরুতে লং বল ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হন তিনি। আক্রমণে তিনি খুব একটা প্রভাব ফেলতে পারেননি এবং শেষের দিকে তাকে তুলে নেওয়া হয়।
উইংয়ে অপ্রত্যাশিতভাবে তাকে খেলানো হয়েছে। অনেক পরিশ্রম করলেও তার পাসগুলো ঠিকমতো লক্ষ্যে পৌঁছায়নি এবং অফসাইডের ফাঁদে পড়েছেন তিনি।
প্রথমার্ধে তাকে বেশ দিশেহারা মনে হয়েছে। জুড বেলিংহাম বারবার তাকে কাটিয়ে এগিয়ে গেছেন। এক ঘণ্টা খেলার পর তাকে তুলে নেওয়া হয়।
লিভারপুলের এই মিডফিল্ডার ডেক্লান রাইসের বিরুদ্ধে কড়া লড়াই করেছেন। ইংল্যান্ড রক্ষণাত্মক কৌশল নিলে তিনি দলকে বল দখলে রাখতে সাহায্য করেছেন।
এনজো ফার্নান্দেজ (মিডফিল্ডার) – ৮/১০
শুরুতে একটি বাজে চ্যালেঞ্জের কারণে তিনি হলুদ কার্ডের ঝুঁকিতে ছিলেন। তবে শেষ দিকে ২৫ গজ দূর থেকে করা তার গোলটি ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
লিওনেল মেসি (ফরোয়ার্ড) – ৮.৫/১০
বেশিরভাগ সময় ম্যাচে তাকে সেভাবে দেখা যায়নি। ইংল্যান্ডের রক্ষণ তাকে প্রায় আষ্টেপৃষ্ঠে আটকে রেখেছিল। কিন্তু ম্যাচের শেষ দিকে তার দুটি অসাধারণ অ্যাসিস্ট সবকিছু বদলে দেয়। তিনি আবারো প্রমাণ করলেন কেন তাকে অপ্রতিদ্বন্দ্বী বলা হয়।
তিনি ইংল্যান্ডের ডিফেন্ডারদের ওপর নিয়মিত চাপ সৃষ্টি করেছেন। জন স্টোনস এবং মার্ক গুয়েহি তাকে বক্সের ভেতরে খুব একটা সুযোগ দেননি।
আর্জেন্টিনার বদলি খেলোয়াড়
নিকোলাস গঞ্জালেজ (মিডফিল্ডার) – ৬.৫/১০
৬৩ মিনিটে পেরেদেসের বদলি হিসেবে নেমে তিনি মাঠের পরিধি বাড়িয়ে দেন, যা ইংল্যান্ডের ক্লান্ত ডিফেন্ডারদের বেশ চাপে ফেলেছিল।
মোলিনার বদলি হিসেবে নেমে তিনি ডান প্রান্তে রক্ষণভাগকে কিছুটা স্থিতিশীল করেন।
ম্যাচের শেষ দিকে আর্জেন্টিনার জয় নিশ্চিত করতে তার উপস্থিতি ছিল গুরুত্বপূর্ণ। ইংল্যান্ডের পাল্টা আক্রমণ ঠেকাতে তিনি চতুরতার সঙ্গে হলুদ কার্ড দেখেন।
নিকোলাস ওটামেন্ডি (ডিফেন্ডার) – ৬/১০
লিসান্দ্রো মার্টিনেজের বদলি হিসেবে নেমে শেষ মুহূর্তের স্নায়ুচাপ সামলাতে তিনি তার অভিজ্ঞতার পরিচয় দিয়েছেন।
লাউতারো মার্টিনেজ (ফরোয়ার্ড) – ৮/১০
নিখুঁত বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নেমেছিলেন তিনি। ৮০ মিনিটে নেমে মেসির পাস থেকে ঠান্ডা মাথায় জয়সূচক গোলটি করেন তিনি।
