বিশ্বকাপ ফাইনালে মার্ক কুকুরেল্লাকে কার্ড দেখানোর দাবি তুলে সমালোচনার মুখে লিওনেল মেসি
লিওনেল মেসিকে নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের ডিফেন্ডার মার্ক কুকুরেল্লাকে মাঠ থেকে বের করে দেওয়ার প্রচেষ্টাকে অনেকে ‘শিশুসুলভ আচরণ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। নিউ ইয়র্কে অনুষ্ঠিত উত্তেজনাকর ফাইনালে স্পেনের ডিফেন্ডারের সঙ্গে এক ঘটনার সময় আর্জেন্টাইন অধিনায়ক এমন প্রতিক্রিয়া দেখান।
ম্যাচে পাউ কুবারসির ফাউলের দায়ে এনজো ফার্নান্দেজ দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তখন খেলোয়াড়রা স্লোভেনিয়ান রেফারি স্লাভকো ভিনচিচকে ঘিরে ধরেন।
কুকুরেল্লা তখন মেসির সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করছিলেন। সেই সময় আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড মরিয়া হয়ে রেফারি ভিনচিচের কাছে নালিশ জানাতে ছুটে যান। মেসির অভিযোগ ছিল, কুকুরেল্লা মুখ ঢেকে তার সঙ্গে কথা বলেছেন।
ফিফা বিশ্বকাপের নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিপক্ষের খেলোয়াড় মুখ ঢেকে কিছু বললে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হতে পারে, যা আগে প্যারাগুয়ের মিগুয়েল আলমিরনের ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছিল।
আর্জেন্টিনাকে সমানে সমান লড়াইয়ে ফেরানোর জন্য মেসির এমন উদ্যোগকে ভালোভাবে নেননি আইটিভি ধারাভাষ্যকার লি ডিক্সন। ইংল্যান্ডের এই সাবেক ডিফেন্ডার সরাসরি বিরক্তি প্রকাশ করেন।
তিনি সম্প্রচারের সময় বলেন, “কেউ মুখ ঢেকে কথা বলেছে বলে তাকে লাল কার্ড দেখানো হবে—এমনটা হলে ফুটবলের সৌন্দর্য হারিয়ে যাবে। কাউকে মাঠ থেকে বের করে দেওয়ার জন্য এমন শিশুসুলভ আচরণ করা একেবারেই অযৌক্তিক।”
ম্যাচের শেষদিকে বদলি খেলোয়াড় ফেরান তোরেসের গোলে স্পেন দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ শিরোপা জয় করে। মেসির জন্য সম্ভবত এটিই ছিল শেষ বিশ্বকাপ, যা ১০ জনের আর্জেন্টিনা দলের ১-০ গোলের হারে শেষ হয়েছে।
দক্ষিণ আমেরিকান ও ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নদের এই হাইভোল্টেজ ফাইনালটি মূলত রক্ষণ বনাম আক্রমণের লড়াইয়ে পরিণত হয়েছিল। গতবারের চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা লড়াই করার মানসিকতা দেখালেও মাঠে তেমন প্রভাব ফেলতে পারেনি।
পুরো ৯০ মিনিটে আর্জেন্টিনা একটিও শট নিতে পারেনি। গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজের বীরত্বেই স্পেন বড় ব্যবধানে এগিয়ে যেতে পারেনি, বিশেষ করে লামিন ইয়ামালের একটি ফ্রি-কিক তিনি অসাধারণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন।
অতিরিক্ত সময়ের ঠিক আগে এনজো ফার্নান্দেজ দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে লিওনেল স্কালোনির দল বড় বিপদে পড়ে। লুইস দে লা ফুয়েন্তের সুশৃঙ্খল ও নান্দনিক ফুটবলের সামনে আর্জেন্টিনা বারংবার খেই হারিয়ে ফেলে।
স্পেন ক্রমাগত আক্রমণ চালিয়ে যায় এবং অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে বদলি খেলোয়াড় তোরেস গোল করে দলকে এগিয়ে নেন। সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারানো আর্জেন্টিনার এই দলটি ফাইনালে নিজেদের ছায়া হয়ে ছিল এবং গোল শোধ করতে ব্যর্থ হয়।
ম্যাচ শেষে রেফারির শেষ বাঁশি বাজতেই স্প্যানিশ খেলোয়াড়দের উদযাপনের মধ্য দিয়ে ৩৯ বছর বয়সী তারকা মেসির বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারের সম্ভবত শেষ ম্যাচটি সমাপ্ত হলো।
