ইংল্যান্ডের রক্ষণব্যূহ ভেঙে যেভাবে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিলেন মেসি
শারীরিক শক্তির বিচারে ইংল্যান্ড নিজেদের বেশ এগিয়ে রাখে। তাই মাঠে অধিকাংশ সময় হেলেদুলে হাঁটা ৩৯ বছর বয়সী এক খেলোয়াড়ের বিপক্ষে ইংল্যান্ডের ভালো করারই কথা ছিল। কিন্তু মাঠের লড়াইয়ের চিত্র ছিল ভিন্ন। লিওনেল মেসির অ্যাথলেটিক সক্ষমতা আগের চেয়ে কমলেও, তার ফুটবলীয় বুদ্ধিমত্তা সেই শারীরিক ঘাটতি পুরোপুরি পুষিয়ে দেয়।
ইংল্যান্ড যখন ক্লান্তি আর কোচ থমাস টুখেলের কৌশলগত পরিবর্তনের কারণে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছিল, তখন অভিজ্ঞ মেসি মাঠের ভেতর থেকে অনেকটা কোচের দায়িত্ব পালন করছিলেন। আটলান্টায় আর্জেন্টিনার জয়ে মেসি কীভাবে ইংল্যান্ডের দুর্বলতাগুলো কাজে লাগিয়েছেন, তা নিচে তুলে ধরা হলো।
England pride themselves on their physicality, so shouldn’t it have suited them to face a 39-year-old who spends most of his time walking?
Well, that’s not quite how it turned out.
Lionel Messi is less athletic compared to his younger self, but his footballing intelligence makes up for the physical drop-off.
ইংল্যান্ডের শুরুর পর আর্জেন্টিনা যেভাবে ম্যাচে ফিরল
ম্যাচের প্রথমার্ধে ইংল্যান্ড আর্জেন্টিনাকে চাপে রাখার চেষ্টা করে। উইঙ্গার অ্যান্থনি গর্ডন এবং মরগান রজার্স আর্জেন্টিনার দুই সেন্ট্রাল ডিফেন্ডারকে চাপে রাখার দায়িত্ব পান। এর ফলে গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ এবং ডিফেন্ডার ক্রিস্টিয়ান রোমেরো ও লিসান্দ্রো মার্টিনেজের জন্য ফুল-ব্যাকদের খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। আর্জেন্টিনার জন্য মাঝমাঠ দিয়ে সহজ পাস দেওয়া সম্ভব মনে হলেও, সেটি খেলতে গিয়ে তারা শুরুতে ইংল্যান্ডের জালে আটকা পড়ে।
জুড বেলিংহাম প্রত্যাশার চেয়ে কিছুটা গভীরে অবস্থান করছিলেন। প্রেস করার বদলে তিনি এনজো ফার্নান্দেজকে নজরে রাখছিলেন। ডেক্লান রাইস অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারকে এবং এলিয়ট অ্যান্ডারসন মেসিকে মার্ক করছিলেন। আর্জেন্টিনা যখন তাদের চিরাচরিত মাঝমাঠ কেন্দ্রিক ফুটবল খেলার চেষ্টা করছিল, তখন ইংল্যান্ড তাদের শারীরিক শক্তি দিয়ে তা স্তব্ধ করে দেয়।
তবে ফার্নান্দেজ এবং ম্যাক অ্যালিস্টারের মতো মেসিও ধীরে ধীরে খেলায় ফিরে আসেন। আর্জেন্টিনার অধিনায়ক গভীর অবস্থান নিতে শুরু করেন, যা অ্যান্ডারসনের সামনে দ্বিধা তৈরি করে। মেসির হাঁটার গতি এখানে প্রতারণার একটি মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। প্রায় স্থির অবস্থা থেকে হঠাৎ দৌড় শুরু করে মেসি বলের দিকে ছুটে যেতেন। ইংল্যান্ডের প্রেস শিথিল হতে থাকলে আর্জেন্টিনা ধীরে ধীরে খেলার নিয়ন্ত্রণ নিতে শুরু করে।
মেসির মাস্টারক্লাস যেভাবে ইংল্যান্ডের আশা চূর্ণ করল
৫৫তম মিনিটে অ্যান্থনি গর্ডন গোল করে ইংল্যান্ডকে এগিয়ে দেন এবং তারা আধা ঘণ্টা সেই লিড ধরে রাখে। ৮৫তম মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে মেসি খুঁজে নেন ফার্নান্দেজকে, যিনি দুর্দান্ত এক গোল করে সমতা ফেরান। ইনজুরি টাইমে মেসির ক্রস থেকে লাউতারো মার্টিনেজ হেডের মাধ্যমে জয়সূচক গোলটি করেন।
গর্ডনের গোল থেকে আর্জেন্টিনার সমতাসূচক গোল পর্যন্ত ইংল্যান্ড বলের দখল মাত্র ১২ শতাংশ রাখতে পেরেছিল। এই সময়ে মেসি ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগের দুর্বলতাগুলো খুঁজে বের করেন। অ্যান্ডারসন শুরুতে সফল হলেও, মেসি দ্রুতই প্রতিপক্ষের খেলার ধরন বুঝে তার কৌশল পরিবর্তন করেন। তিনি অ্যান্ডারসনের আগ্রাসনকে নিজের কাজে লাগান। মেসি বল ধরে রেখে অ্যান্ডারসনকে নিজের দিকে টেনে আনেন এবং সেই ফাঁকা জায়গায় সতীর্থদের পাস বাড়িয়ে আক্রমণ তৈরি করেন।
অ্যান্ডারসনের চাপে থেকেও মেসি বল সতীর্থের দিকে ঠেলে দেন। [বিবিসি]
ফাঁকা জায়গা চেনা ও উত্তেজনা সৃষ্টি
ইংল্যান্ড মাঝমাঠ আটকে রেখেছিল, কিন্তু মেসি মাঝের জায়গা থেকে বেরিয়ে ফাঁকা জায়গায় দাঁড়িয়ে খেলা নিয়ন্ত্রণ করেন। এই জায়গাগুলো তাকে বল গ্রহণ করতে বা প্রতিপক্ষকে টেনে এনে তাদের রক্ষণভাগ এলোমেলো করে দিতে সাহায্য করেছে।
বেলিংহাম আক্রমণের ক্ষেত্রে উজ্জ্বল থাকলেও তার রক্ষণাত্মক অবস্থানের কারণে মেসি বেশ কিছু সুযোগ তৈরি করেন। ৪-৪-২ ব্লকে বেলিংহামকে উইং সামলাতে হতো, কিন্তু মেসি সেই ফাঁকা জায়গা কাজে লাগান। ইংল্যান্ডের ৫-৩-২ বা ৫-৪-১ ফর্মেশনও মেসির এই ড্রিবলিং আর পাসিংয়ের সামনে সুবিধা করতে পারেনি।
লিওনেল স্কালোনি এবং মেসি এমন একটি কৌশল গড়ে তুলেছিলেন যা ডান দিক দিয়ে আক্রমণের সুযোগ তৈরি করে। ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়দের ক্লান্তি এবং অগোছালো রক্ষণভাগকে কাজে লাগিয়ে আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেয়।
