রিয়াল মাদ্রিদের নতুন কোচ হিসেবে দায়িত্ব নিলেন হোসে মরিনহো
হোসে মরিনহো আনুষ্ঠানিকভাবে রিয়াল মাদ্রিদের নতুন কোচ হিসেবে ফিরে এসেছেন। তিনি আগামী ১৩ জুলাই, সোমবার থেকে তার প্রাক-মৌসুম ক্যাম্পেইন শুরু করতে যাচ্ছেন।
ক্লাবে হতাশাজনক সময় কাটানোর পর আলভারো আরবেলোয়ার স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন মরিনহো। রিয়াল মাদ্রিদ গত দুই বছর কোনো ট্রফি জিততে পারেনি, তাই দলকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনার জন্য নতুন কোচের হাতে খুব বেশি সময় নেই।
বিজ্ঞাপন
তবে মরিনহোর প্রতি ক্লাবের ভেতর থেকে ব্যাপক সমর্থন রয়েছে। বিশেষ করে ড্রেসিংরুমের খেলোয়াড়দের মানের ওপর ভিত্তি করে, স্কোয়াড থেকে সেরাটা বের করে আনার ব্যাপারে মরিনহোর সক্ষমতার ওপর তারা বিশ্বাস রাখছে।
কাগজে-কলমে রিয়াল মাদ্রিদের স্কোয়াড ইউরোপের অন্যতম শক্তিশালী দল। কিন্তু মাঠের পারফরম্যান্সে এর প্রতিফলন ঘটেনি। মরিনহো এখন সেই পরিস্থিতি পরিবর্তনের মিশনে নেমেছেন। এই প্রাক-মৌসুম ক্যাম্পেইনটি সেই লক্ষ্য অর্জনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মাদ্রিদ ইউনিভার্সাল আপনাদের সামনে এমন তিনটি বিষয় তুলে ধরছে, যা রিয়াল মাদ্রিদে মরিনহোর প্রাক-মৌসুম শুরুর সময় নজর রাখার মতো।
তরুণদের ওপর কি আস্থা রাখবেন মরিনহো?
চলমান ফিফা বিশ্বকাপ রিয়াল মাদ্রিদের প্রাক-মৌসুম ক্যাম্পেইনকে কিছুটা জটিল করে তুলেছে। কারণ, দলের নিয়মিত অনেক খেলোয়াড় শুরুতে কোচের পরিকল্পনায় থাকতে পারছেন না।
পূর্বসূরিদের মতো মরিনহোও কি একাডেমি খেলোয়াড়দের ওপর ভরসা করবেন?
বিজ্ঞাপন
দলের সেরা খেলোয়াড়দের বড় অংশই বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করছেন, তাই প্রাক-মৌসুমের প্রাথমিক পর্যায়ে কোচকে বাকি খেলোয়াড়দের নিয়েই কাজ চালাতে হবে।
দলের সংখ্যা পূর্ণ করতে মরিনহো প্রাক-মৌসুমের প্রথম কয়েক সপ্তাহ একাডেমি থেকে উঠে আসা তরুণ খেলোয়াড়দের ওপর নির্ভর করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এটি দেখার বিষয় যে, কোনো একাডেমি খেলোয়াড় পুরো মৌসুমের জন্য নিজেকে দলে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেন কিনা।
আলভারো আরবেলোয়া এবং জাবি আলোনসোর সাম্প্রতিক সময়ে রিয়াল মাদ্রিদে একাডেমি স্নাতকদের সুযোগ দিয়েছিলেন। যার ফলস্বরূপ ডেভিড জিমেনেজ, থিয়াগো পিটার্চ, সিজার প্যালাসিওস, হোর্হে সেস্তেরোর মতো খেলোয়াড়রা মূল দলে অভিষেক করেছিলেন।
এই খেলোয়াড়রা পরের সপ্তাহে শুরু হতে যাওয়া মরিনহোর প্রাক-মৌসুম ক্যাম্পেইনের অংশ হবেন। এখন শুধু দেখার বিষয়, কোচ তাদের মধ্যে কাদের পছন্দ করেন।
বিজ্ঞাপন
দীর্ঘদিন ধরে ফুটবল বিশ্বে ‘দ্য স্পেশাল ওয়ান’ হিসেবে পরিচিত মরিনহো একাডেমি খেলোয়াড়দের চেয়ে বড় অর্থের বিনিময়ে অভিজ্ঞ খেলোয়াড় কেনা এবং দ্রুত সমাধান খুঁজে বের করাতেই বেশি পছন্দ করেন।
যদি কোনো তরুণ খেলোয়াড় কোচকে প্রভাবিত করতে পারেন, তবে তা ক্লাবের ট্রান্সফার বাজেট সাশ্রয়ে সাহায্য করবে এবং সেই অর্থ অন্য গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে খরচ করা সম্ভব হবে।
কোচের কৌশলের এক ঝলক
হোসের অধীনে রিয়াল মাদ্রিদের খেলার ধরন কেমন হবে?
রিয়াল মাদ্রিদে ফেরার পর মরিনহোর প্রথম মৌসুমে বড় প্রশ্ন হলো, তিনি কী ধরনের কৌশল গ্রহণ করবেন। আগামী কয়েক সপ্তাহে এর উত্তর স্পষ্ট হয়ে উঠবে।
বিজ্ঞাপন
এখন পর্যন্ত মরিনহো কেবল রক্ষণভাগের খেলোয়াড়দের দলে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। এটি স্পষ্ট যে, তার কৌশলে ব্যাকলাইন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
শুরু থেকেই তিনি ট্রেন্ট আলেকজান্ডার-আর্নল্ড, আলভারো কারেরাস, ডিন হুইজেন এবং রাউল আসেনসিওর মতো খেলোয়াড়দের পাচ্ছেন। তিনি কীভাবে রক্ষণভাগ সাজান, তা দেখা বেশ আকর্ষণীয় হবে।
মাঝমাঠের জন্য মরিনহো নতুন খেলোয়াড়দের পাওয়ার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন, কিন্তু বার্নার্ডো সিলভা ছাড়া এখন পর্যন্ত নতুন কোনো নাম যোগ হয়নি।
প্রাক-মৌসুমের শুরুতে তিনি মাঝমাঠের অধিকাংশ খেলোয়াড়কে পাচ্ছেন না। তবে এডুয়ার্ডো কামাভিঙ্গা দলের সঙ্গে থাকবেন এবং আরদা গুলার ও ফেদেরিকো ভালভার্দেও শিগগিরই যোগ দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
কিলিয়ান এমবাপ্পে এবং ভিনিসিউস জুনিয়রের বলের বাইরের নিষ্ক্রিয়তা দূর করতে কোচ কী পরিকল্পনা করেন, সেটিও দেখার বিষয়। গত মৌসুমে এটি রিয়াল মাদ্রিদের জন্য অন্যতম বড় সীমাবদ্ধতা ছিল।
যদি পর্তুগিজ এই কোচ এই সমস্যার সমাধান করতে পারেন, তবে ড্রেসিংরুমের জটিলতার একটি বড় অংশের সমাধান হয়ে যাবে।
নতুন খেলোয়াড়রা অনুপুস্থিত
প্রাক-মৌসুমের শুরুতে নতুন কোনো খেলোয়াড়কে পাচ্ছেন না কোচ।
মরিনহো প্রথম দিন থেকেই তার দর্শন বাস্তবায়ন এবং সুন্দর পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করবেন, কিন্তু দলের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের অনুপস্থিতি বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিজ্ঞাপন
নিয়মিতদের পাশাপাশি কোচের জন্য বড় দুশ্চিন্তার বিষয় হলো নতুন চুক্তিবদ্ধ খেলোয়াড়দের না পাওয়া, যাদের তিনি ব্যক্তিগতভাবে এই মৌসুমে দলে চেয়েছেন।
ইব্রাহিমা কোনাতে এবং মার্ক কুকুরেল্লা যথাক্রমে ফ্রান্স ও স্পেনের হয়ে বিশ্বকাপে খেলছেন। অন্যদিকে বার্নার্ডো সিলভা এবং ডেনজেল ডামফ্রিস বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেছেন।
ডামফ্রিস জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে অনুশীলনে ফিরবেন বলে আশা করা হচ্ছে। কিন্তু বার্নার্ডো সিলভা মাসের শেষ দিকে ভিনিসিউস জুনিয়র ও ব্রাজিলের অন্যান্য খেলোয়াড়দের সঙ্গে যোগ দিতে পারেন।
এদিকে কুকুরেল্লা এবং কোনাতে আগস্টের আগে ফিরছেন না, যা মরিনহোর পরিকল্পনায় বড় আঘাত।
বিজ্ঞাপন
স্বাভাবিকভাবেই কোচের ইচ্ছা ছিল সব নতুন খেলোয়াড়কে শুরু থেকেই নিজের অধীনে পাওয়ার, যাতে তাদের মধ্যে তিনি নিজের প্রত্যাশাগুলো ছড়িয়ে দিতে পারেন। কিন্তু এই মুহূর্তে তাদের না পাওয়া কোচের পরিকল্পনার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
