এমবাপ্পে ও ভিনিসিয়াসের সমন্বয় খোঁজা এখন রিয়াল মাদ্রিদে মরিনহোর বড় চ্যালেঞ্জ
দ্য অ্যাথলেটিকের মারিও কোর্তেগানার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, রিয়াল মাদ্রিদে জোসে মরিনহোর সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো কিলিয়ান এমবাপ্পে এবং ভিনিসিয়াস জুনিয়রকে একসঙ্গে খেলানোর কার্যকর উপায় খুঁজে বের করা। কোচ মরিনহোর পরিকল্পনায় এই দুই ফরোয়ার্ডই কেন্দ্রীয় অবস্থানে থাকলেও, তাদের মধ্যকার বোঝাপড়া এখনো মাদ্রিদের প্রত্যাশা অনুযায়ী গড়ে ওঠেনি।
একই জায়গায় ছুটছেন মাদ্রিদের দুই ফরোয়ার্ড
অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে ২-১ গোলে হারের ম্যাচে এই সমস্যা প্রকট হয়ে ওঠে। দুই খেলোয়াড়ের হিটম্যাপ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তারা বারবার মাঠের বাম দিকে একই জায়গা দখল করছিলেন এবং তাদের কেউই গোল পাননি। মৌসুমের প্রথম আট ম্যাচে এমবাপ্পে আটটি গোল ও দুটি অ্যাসিস্ট করেছেন, অন্যদিকে ভিনিসিয়াসের দখলে আছে একটি গোল ও তিনটি অ্যাসিস্ট।
মরিনহো এখন তাদের পাল্টা আক্রমণের সময় ভিন্ন ভিন্ন জায়গায় পাঠানোর চেষ্টা করছেন। মাদ্রিদ তাদের গত কয়েক বছরের ৪-৪-২ ফরমেশন থেকে সরে এসে বর্তমানে ৪-২-৩-১ ফরমেশনে খেলছে। এই কৌশলে ফরোয়ার্ডদের মূল কাজ হলো দলের রক্ষণভাগ সুরক্ষিত রাখা ও দলীয় ভারসাম্য বজায় রাখা। এমবাপ্পে এবং ভিনিসিয়াসের যৌথ আক্রমণ এখনো দলের প্রধান শক্তি। সেই সঙ্গে আর্দা গুলেরের মতো সৃজনশীল খেলোয়াড়দের ব্যবহার করে মরিনহো আক্রমণের নতুন কাঠামো তৈরির চেষ্টা করছেন, যা তার আক্রমণাত্মক পরিকল্পনার অন্যতম অংশ।
ক্লাসিকোর আগে বাড়ছে চাপ
লা লিগায় বার্সেলোনার চেয়ে বর্তমানে ছয় পয়েন্ট পিছিয়ে আছে রিয়াল মাদ্রিদ। আগামী ২৫ অক্টোবর মৌসুমের প্রথম ক্লাসিকো অনুষ্ঠিত হবে। গত দুই বছরে মাদ্রিদ কোনো বড় ট্রফি জিততে পারেনি এবং এই সময়ের মধ্যে চারবার কোচ পরিবর্তন করেছে দলটি। দ্য অ্যাথলেটিক উল্লেখ করেছে, ২০২৪ সালে টনি ক্রুস এবং ২০২৫ সালে লুকা মদরিচের বিদায়ের পর থেকে মাঝমাঠে সৃজনশীল নিয়ন্ত্রণ কমে গেছে।
গত মৌসুমে মাদ্রিদের ড্রেসিংরুম অনেকটা বিশৃঙ্খল থাকলেও, মরিনহো দায়িত্ব নেওয়ার পর বর্তমানে পরিস্থিতি আগের চেয়ে ভালো বলে ক্লাবের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো জানিয়েছে। তবে কোচিং স্টাফের একজন প্রাক্তন সদস্য মনে করেন, দুই ফরোয়ার্ডের উন্নতির জন্য দলের আক্রমণভাগে বড় ধরনের পরিবর্তন প্রয়োজন।
ভিনিসিয়াসকে বসিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা নেই মরিনহোর
মরিনহোর ঘনিষ্ঠরা দ্য অ্যাথলেটিককে জানিয়েছেন, স্পেনের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর ছড়ালেও ভিনিসিয়াসকে দল থেকে বাদ দেওয়ার কথা মোটেও ভাবছেন না কোচ। তার কোচিং স্টাফ এই দুই ফরোয়ার্ডকে দলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন, তাই তিনি চেষ্টা করেন তাদের দীর্ঘ সময় মাঠে রাখতে। মাঠের বাইরের জীবনে তাদের সম্পর্ক ভালো থাকলেও, কেবল মাঠের পজিশন নিয়ে বোঝাপড়ার ঘাটতি দেখা দিচ্ছে।
এমবাপ্পেকে নিয়ে আন্তর্জাতিক বিরতিতে চলা বিতর্ককে ‘হাস্যকর’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন মরিনহো। তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, ১০ অক্টোবর শনিবার ভিলারিয়ালের বিপক্ষে এমবাপ্পে মাঠে নামবেন। এছাড়া ভিনিসিয়াসকে সমর্থনের ক্ষেত্রেও মরিনহোর ইতিবাচক ভূমিকা দৃশ্যমান।
ভিলারিয়ালের বিপক্ষে ম্যাচ এবং ক্লাসিকোর প্রস্তুতিই প্রমাণ করবে যে, ফরোয়ার্ডদের আক্রমণাত্মক রূপ বজায় রেখে তাদের মধ্যে প্রয়োজনীয় দূরত্ব বজায় রাখতে মরিনহো সফল হতে পারেন কি না। মাদ্রিদের সাফল্যের পুরো প্রকল্প এখন এই ভারসাম্য খোঁজার ওপরই নির্ভর করছে।
