ইউরোপ ফুটবলের যে ১০টি ‘ঘুমন্ত দৈত্য’ আজও সাফল্যের অপেক্ষায়
ডিপোর্টিভো, পার্মা বা হামবুর্গের মতো ক্লাবগুলো সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাদের শীর্ষ লিগে ফিরে এসেছে। লিডস ইউনাইটেড, নটিংহ্যাম ফরেস্ট, শালকে এবং মালাগার মতো ক্লাবগুলোও এখন বড় মঞ্চে ফিরেছে। কিন্তু ইউরোপের সেইসব পুরনো ফুটবল জায়ান্টদের কী অবস্থা, যারা এখনও বড় সাফল্যের অপেক্ষায় ‘ঘুমিয়ে’ আছে? একটি ক্লাবের ইতিহাস, ঐতিহ্য, বিশাল ফ্যানবেস এবং স্টেডিয়ামের সক্ষমতা বিবেচনা করে এমন ১০টি ক্লাবের তালিকা তুলে ধরা হলো।
১০. বুরসাস্পোর
২০০৯-১০ মৌসুমে তুর্কি লিগ শিরোপা জয়ের মাধ্যমে বুরসাস্পোর ইস্তাম্বুলের এলিট ক্লাবগুলোর আধিপত্য ভেঙে দিয়েছিল। ৪৩,৩৬১ দর্শক ধারণক্ষমতার কুমির আকৃতির স্টেডিয়ামের এই ক্লাবটি ২০২৪ সালে ইতিহাসের প্রথমবারের মতো চতুর্থ স্তরে নেমে যায়। তবে তারা পুনরায় সুপার লিগে ফেরার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।
৯. ডায়নামো ড্রেসডেন
পূর্ব জার্মানির অন্যতম শক্তিশালী ক্লাব ডায়নামো ড্রেসডেন আটটি লিগ ও সাতটি কাপ শিরোপা জিতেছে। ১৯৯১ সালে পুনর্মিলনের পর তারা বুন্দেসলিগায় খেললেও ঋণের দায়ে পরে নিচের স্তরে নেমে যায়। বর্তমানে দ্বিতীয় স্তরের লিগে থাকা ক্লাবটির মাঠে গড়ে ৩০ হাজারেরও বেশি দর্শক খেলা দেখেন।
৮. কাইজারস্লাউটার্ন
১৯৯৭-৯৮ মৌসুমে পদোন্নতি পাওয়ার ঠিক পরেই বুন্দেসলিগা জেতার বিরল কীর্তি গড়েছিল কাইজারস্লাউটার্ন। ১৯৯০-এর দশকে ইউরোপীয় ফুটবলে নিয়মিত থাকা ক্লাবটি প্রায় ১৫ বছর ধরে শীর্ষ লিগের বাইরে। ৪৭ হাজারের বেশি দর্শক ধারণক্ষমতার মাঠে তারা এখনো জার্মান ফুটবলে নিজেদের অস্তিত্ব জানান দিচ্ছে।
৭. শেফিল্ড ওয়ে বুধবার
দীর্ঘ প্রায় ১০০ বছর আগে লিগ শিরোপা জিতলেও শেফিল্ড ওয়ে বুধবারের ঐতিহ্য ও বিশাল স্টেডিয়াম তাদের এই তালিকায় স্থান দিয়েছে। ১৯৯১ সালে লিগ কাপ জেতা ক্লাবটি বর্তমানে তৃতীয় স্তরের লিগে খেলছে। মে মাসে মার্কিন মালিকানাধীন কনসোর্টিয়াম ক্লাবটির দায়িত্ব নেওয়ায় ভক্তরা নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছেন।
৬. হার্থা বিএসসি
বার্লিনের অলিম্পিয়া স্টেডিয়ামে খেলা হার্থা নিয়মিত ৫০ হাজারের বেশি দর্শক টেনে থাকে। ১৯৯৯ সালে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে চেলসিকে হারানো দলটি বর্তমানে দ্বিতীয় স্তরের লিগের শীর্ষে রয়েছে। তরুণ প্রতিভা তৈরির মাধ্যমে তারা আবারও বুন্দেসলিগায় ফেরার পথে অনেকটা এগিয়ে আছে।
৫. বোর্দো
আর্থিক সংকটের কারণে ছয়বারের ফরাসি চ্যাম্পিয়ন বোর্দো সম্প্রতি ষষ্ঠ স্তরের আঞ্চলিক লিগে নেমে গেছে। তবে নতুন মালিকানা পাওয়ায় তারা এখন নতুন করে গড়ার চেষ্টা করছে। জিদান বা টিগানার মতো কিংবদন্তিদের সাবেক এই ক্লাবটি আবার পুরনো গৌরব পুনরুদ্ধারের অপেক্ষায়।
৪. এফসি নুরেমবার্গ
নয়বারের লিগ চ্যাম্পিয়ন নুরেমবার্গ বা জার্মানির ‘ডার ক্লাব’ হিসেবে পরিচিত। ৫০ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার নিজস্ব স্টেডিয়াম ও বিশাল সমর্থকগোষ্ঠী থাকা ক্লাবটির কোচ এখন বিশ্বজয়ী মিরোস্লাভ ক্লোসা। তারাও এখন শীর্ষ স্তরে ফেরার লক্ষ্য নিয়ে খেলছে।
৩. রিয়াল জারাগোজা
১৯৯৫ সালে কাপ উইনার্স কাপ জয়ী জারাগোজা বর্তমানে স্পেনের তৃতীয় স্তরের লিগে খেলছে। দিয়েগো মিলিতো বা ডেভিড ভিলার মতো তারকাদের সাবেক এই ক্লাবটি ২০৩০ বিশ্বকাপের জন্য ৪৩ হাজার আসনবিশিষ্ট নতুন স্টেডিয়াম তৈরির কাজ করছে, যা তাদের শীর্ষ পর্যায়ে ফেরার স্বপ্ন দেখাচ্ছে।
২. সেন্ট-এতিয়েন
এক সময়ের ফ্রান্সের সবচেয়ে সফল ক্লাব সেন্ট-এতিয়েন ১০টি লিগ শিরোপার মালিক। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তারা দ্বিতীয় স্তরের লিগে সময় পার করছে। তবে তাদের ৪২ হাজার ধারণক্ষমতার মাঠ ‘দ্য কলড্রন’ এখনো প্রতিপক্ষের কাছে ভয়ের কারণ। তারা বারবার শীর্ষ লিগে ফেরার কাছাকাছি পৌঁছেও অল্পের জন্য ব্যর্থ হচ্ছে।
১. সাম্পদোরিয়া
১৯৯০-এর দশকে সাম্পদোরিয়া ছিল ইউরোপীয় ফুটবলের অন্যতম শক্তির নাম। ১৯৯১ সালে সিরি আ শিরোপা জয় এবং ১৯৯২ সালে ইউরোপীয় কাপের ফাইনালে ওঠা এই দলটিতে খেলেছেন জিয়ানলুকা ভিয়ালি ও রবার্তো মানচিনির মতো তারকারা। গুরুতর আর্থিক সংকটের কারণে ক্লাবটি বড় ধাক্কা খেলেও নতুন মালিকানার অধীনে তারা এখন স্থিতিশীলতা ও পুরনো ঐতিহ্য ফেরানোর অপেক্ষায় আছে।
