নরওয়ের গোলের আগে ফাউলের দাবি হ্যারি কেনের
বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়ের বিরুদ্ধে ম্যাচের শুরুতে গোল খাওয়ার আগে ফাউলের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেন। গোলটির বিল্ড-আপের সময় রেফারির কাছে ফাউলের আবেদন জানালেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন।
ম্যাচের প্রথমার্ধের বেশিরভাগ সময় বল নিজেদের দখলে রেখে আধিপত্য বিস্তার করেছিল ইংল্যান্ড। কিন্তু ৩৬তম মিনিটে খেলার ধারার বিপরীতে নরওয়ে এগিয়ে যায়। আন্দ্রিয়াস শিয়েলড্রুপ সাইডলাইন থেকে বল ক্রস করার চেষ্টা করেন, যা পোস্টের ভেতরের দিকে লেগে জালে জড়িয়ে যায়।
তবে এই গোলের ঠিক আগমুহূর্তে নরওয়ের মিডফিল্ডার প্যাট্রিক বার্গ পেছন থেকে হ্যারি কেনকে ধাক্কা দেন বলে অভিযোগ ওঠে। এতে কেন বলের দখল হারান এবং যন্ত্রণায় গোড়ালি চেপে ধরেন। নরওয়ে দ্রুত বল নিয়ে ইংল্যান্ডের বক্সের দিকে এগিয়ে গিয়ে গোলটি আদায় করে নেয়। ৩২ বছর বয়সী কেন সঙ্গে সঙ্গে রেফারি ক্লেমেন্ট টারপিনের কাছে গোলটি বাতিলের দাবি জানান।
যদিও মাঠে কোনো ভিএআর (VAR) পর্যালোচনা করা হয়নি এবং রেফারি টারপিন দ্রুত খেলা পুনরায় শুরু করার নির্দেশ দেন। এর আগে আর্জেন্টিনা বনাম মিশর ম্যাচে মিশরীয়দের দ্বিতীয় গোলের বিল্ড-আপে অনেক আগের ফাউলের ভিত্তিতে ভিএআর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। সেই ম্যাচে আর্জেন্টিনা ৩-২ গোলে জয়ী হওয়ায়, ইংল্যান্ডের সমর্থকরা মনে করছেন তাদের ক্ষেত্রে একই বিচার পাওয়া উচিত ছিল।
তবে আইটিভির রেফারিং বিশেষজ্ঞ ক্রিস্টিনা আঙ্কেল জানিয়েছেন, রেফারি সঠিক সিদ্ধান্তই নিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমরা স্পষ্টভাবে দেখতে পাচ্ছি, নরওয়ের খেলোয়াড় বল স্পর্শ করতে সক্ষম হয়েছেন। কেনের গোড়ালিতে কোনো আঘাত করা হয়নি। তাই আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচের মতো এখানে কোনো ফাউল নেই, বরং এটি বৈধ উপায়ে বলের দখল পরিবর্তন ছিল।”
গ্যারি নেভিলও এই মতের সাথে একমত পোষণ করে জানান, “এটি কোনোভাবেই ফ্রি-কিক হতে পারে না।”
প্রথমার্ধের শেষদিকে জুড বেলিংহাম গোল করে ইংল্যান্ডকে সমতায় ফেরান। এরপর কেন আবারও গোল করার চেষ্টা করেন, কিন্তু লাইন্সম্যান অফসাইডের পতাকা তুললে সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। পরবর্তী সময়ে দেখা যায়, অফসাইডের সিদ্ধান্তটি সঠিক ছিল।
