কেভিন কেলসির জন্য ১০ মিলিয়ন ডলারের প্রস্তাব রেঞ্জার্স এফসির
দ্য অ্যাথলেটিকের টম বোগার্টের দেওয়া সাম্প্রতিক ট্রান্সফার আপডেট অনুযায়ী, কেভিন কেলসিকে দলে নিতে প্রায় ১০ মিলিয়ন ডলারের প্রস্তাব দিয়েছে রেঞ্জার্স এফসি। পোর্টল্যান্ড টিম্বার্সের এই আক্রমণভাগের খেলোয়াড়ের ওপর নজর রাখছে আরও বেশ কয়েকটি ক্লাব। তবে বর্তমানে পোর্টল্যান্ড টিম্বার্স বা এই তরুণ ফরোয়ার্ড—কেউই এই গ্রীষ্মে দল পরিবর্তনের বিষয়ে আগ্রহী নয়।
২২ বছর বয়সী ভেনেজুয়েলার এই আন্তর্জাতিক খেলোয়াড় নিজের দেশের ক্লাব মিনেরোস ডি গুয়েনার একাডেমিতে বেড়ে উঠেছেন এবং সেখান থেকেই মূল দলে জায়গা করে নেন। এরপর ৬ লাখ ইউরোর বিনিময়ে তিনি উরুগুয়ের ক্লাব বোস্টন রিভারে পাড়ি জমান। সেখান থেকে ইউক্রেনের জায়ান্ট ক্লাব শাখতার দোনেৎস্কে যোগ দেন, যারা কয়েক সপ্তাহ পরেই তার জন্য ৩৫ লাখ ইউরো খরচ করেছিল।
শাখতার দোনেৎস্কে সীমিত সুযোগ পাওয়ার পর কেলসিকে নিয়মিত খেলার সুযোগের জন্য এফসি সিনসিনাটিতে ধারে পাঠানো হয়। সেখানে তিনি ২৩টি এমএলএস ম্যাচে ছয়বার গোল করেন। গত বছর শাখতার তাকে বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নেয় এবং পোর্টল্যান্ড টিম্বার্স ৬ মিলিয়ন ডলারে তাকে দলে ভেড়ায়। ওরেগনে এসে নিজেকে দারুণভাবে মেলে ধরেছেন এই স্ট্রাইকার। চলতি মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ২০ ম্যাচে ৯টি গোল এবং ৩টি অ্যাসিস্ট করেছেন তিনি।
কেন নতুন সেন্ট্রাল-ফরোয়ার্ড খুঁজছে রেঞ্জার্স
তাত্ত্বিকভাবে রেঞ্জার্সের আক্রমণভাগে ভালো গভীরতা রয়েছে। কিন্তু ইউসেফ চেরমিটির এসিএল ইনজুরির কারণে এখন লরেন্স শ্যাঙ্কল্যান্ড, বোয়ান মিওভস্কি এবং রায়ান নাদেরিকে নিয়ে কাজ চালাতে হচ্ছে তাদের। ডেরেক ম্যাকইনেস সাধারণত ৪-৪-২ ফরমেশনে শারীরিক শক্তিনির্ভর জুটি পছন্দ করেন। তবে স্কটিশ কোচের অধীনে মৌসুমের ব্যস্ত সূচি সামলাতে দলে ভারসাম্য ফেরানো জরুরি হয়ে পড়েছে।
ম্যাকইনেসের অধীনে হার্টসের সাফল্যের মূল কারিগর ছিলেন শ্যাঙ্কল্যান্ড, কিন্তু রেঞ্জার্সের আক্রমণভাগের নেতৃত্ব দেওয়ার সময় তিনি এখনো সেভাবে প্রভাব ফেলতে পারেননি। অন্যদিকে শীতকালীন দলবদলে জার্মানির তৃতীয় সারির ক্লাব হান্সা রোস্টক থেকে আসা রায়ান নাদেরি পরিশ্রমী হলেও ধারাবাহিকভাবে গোল পেতে হিমশিম খাচ্ছেন। বোয়ান মিওভস্কি গোল করার দক্ষতার জন্য পরিচিত হলেও বিল্ড-আপ প্লেতে খুব একটা অবদান রাখতে পারেন না। শ্যাঙ্কল্যান্ডের সঙ্গে তাকে খেলালে মাঝমাঠের জায়গাগুলো অনেক বেশি ঘিঞ্জি হয়ে যায়, যা দলের সামনের দিকের রক্ষণাত্মক চাপ তৈরিতে বাধা সৃষ্টি করে।
কেভিন কেলসি এখনও নিজের দক্ষতা বাড়াচ্ছেন, তবে আকাশে বল নিয়ন্ত্রণে সক্ষমতা, শারীরিক শক্তি এবং বক্সের ভেতরে বুদ্ধিদীপ্ত মুভমেন্টের জন্য তিনি ইতিমধ্যে নজর কেড়েছেন। বিল্ড-আপ প্লেতে খুব বেশি ভূমিকা না রাখলেও তার সরাসরি খেলার ধরণ দলের আক্রমণভাগের সমস্যার সমাধান হতে পারে। এই তরুণ খেলোয়াড়ের সম্ভাবনা অনেক বেশি এবং তার শারীরিক গঠন ম্যাকইনেসের কৌশলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এদিকে, রেঞ্জার্স শেফিল্ড ইউনাইটেডের সেনসেশন রায়ান ওনেকে পাওয়ার জন্যও চেষ্টা চালাচ্ছে। শেষ পর্যন্ত দক্ষিণ আমেরিকার এই ফরোয়ার্ডকে দলে ভেড়াতে রেঞ্জার্স কতটা তৎপর হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
