ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডেই কি ফিরছেন মার্কাস র্যাশফোর্ড? ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে তারকা ফুটবলার
মায়ামিতে ফ্রান্সের বিপক্ষে ইংল্যান্ডের ৬-৪ ব্যবধানে জয়ের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি চিন্তাশীল বার্তার মাধ্যমে নিজের বিশ্বকাপ শেষ করেছেন মার্কাস র্যাশফোর্ড। ফুটবলে হতাশা আসাটাই স্বাভাবিক উল্লেখ করে তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে লিখেছেন, “আমাদের ওপর বিশ্বাস রাখুন। আমাদের সময় আসবে।”
তিনি আরও যোগ করেন, “এখন সময় বিশ্রাম নেওয়ার, নিজেকে নিয়ে ভাবার এবং পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে মানসম্মত সময় কাটানোর। আমি আরও ভালো একজন মানুষ হয়ে ফিরে আসব।”
২৮ বছর বয়সী র্যাশফোর্ডের ক্যারিয়ার এখন তার সেরা সময়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি তিনি বার্সেলোনার হয়ে লা লিগা শিরোপা জিতেছেন। ৭৭টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা এই ফুটবলার থমাস টুখেলের অধীনে ইংল্যান্ডের ১৯৬৬ সালের পর সেরা বিশ্বকাপ পারফরম্যান্সে ছয়টি ম্যাচে অংশ নিয়েছেন। তবে এখন পরিবার এবং ক্যারিয়ারের পরামর্শদাতাদের সঙ্গে আলোচনার মূল বিষয়বস্তু হলো, তার ক্লাব ক্যারিয়ার কি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডেই থাকবে কি না।
সর্বশেষ পরিস্থিতি কী?
২০২৫-২৬ মৌসুমে বার্সেলোনার হয়ে ৪৯ ম্যাচে ১৪ গোল করেছেন মার্কাস র্যাশফোর্ড [গেটি ইমেজস]
২০২৮ সাল পর্যন্ত ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সঙ্গে চুক্তি রয়েছে র্যাশফোর্ডের। তার সাপ্তাহিক ৩ লাখ ২৫ হাজার পাউন্ড বেতন ক্লাবের সর্বোচ্চ। বর্তমান মাইনরিটি মালিক স্যার জিম র্যাটক্লিফ ক্লাবের ব্যয়ের একটি বড় অংশ বেতন বাবদ খরচ কমানোর চেষ্টা করছেন। গত মৌসুমে র্যাশফোর্ডকে ধারে নেওয়ার সময় বার্সেলোনার কাছে তাকে ২৬ মিলিয়ন পাউন্ডে স্থায়ীভাবে কেনার সুযোগ ছিল। জুনের মাঝামাঝি সময়ে সেই সময়সীমা শেষ হয়ে যায়। এছাড়া জুলাইয়ের শুরুতে অন্য ক্লাবের (লিভারপুল ও ম্যানচেস্টার সিটি বাদে) জন্য তাকে ৪০ মিলিয়ন পাউন্ডে কেনার একটি শর্ত ছিল, সেটিও কেউ ব্যবহার করেনি।
বিশ্বকাপ শেষ হওয়ায় র্যাশফোর্ড তিন সপ্তাহের ছুটি পাচ্ছেন। কোনো পরিবর্তন না হলে, ১২ আগস্ট ডাবলিনের ক্রো পার্কে লিডস ইউনাইটেডের বিপক্ষে ম্যাচকে কেন্দ্র করে ছয় দিনের ট্রেনিং ক্যাম্প শুরু করবে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, সেখানেই তিনি ফিরবেন।
২০২১ সালের নভেম্বরে ওলে গানার সোলশার বরখাস্ত হওয়ার পর তিন ম্যাচের জন্য র্যাশফোর্ডের ম্যানেজার ছিলেন মাইকেল ক্যারিক [গেটি ইমেজস]
র্যাশফোর্ডের ইউনাইটেডে ফেরার বিষয়ে তিনি বেশ শান্ত বলেই জানা গেছে। কোচ রুবেন আমোরিম তাকে এক পর্যায়ে দল থেকে সরিয়ে দিয়েছিলেন, যা শেষ পর্যন্ত তাকে অ্যাস্টন ভিলায় ধারে পাঠানোর পথ তৈরি করে। কিন্তু এখনকার কোচ মাইকেল ক্যারিক অতীতে র্যাশফোর্ডের সতীর্থ ছিলেন। ২০২১ সালে ওলে গানার সোলশার বরখাস্ত হওয়ার পর ক্যারিক সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য তার কোচ হিসেবে কাজ করেছেন। তাদের মধ্যে সম্পর্কও বেশ ভালো।
ইউনাইটেড বর্তমানে বার্সেলোনার সঙ্গে চুক্তির শর্ত শিথিল করতে বা দ্বিতীয়বার ধারে দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। এদিকে বার্সেলোনা ইতিমধ্যে অ্যান্থনি গর্ডন ও করিম আদেয়েমিকে দলে ভিড়িয়েছে। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড এখন বড় অংকের খরচ করে খেলোয়াড় কেনা থেকে বিরত থাকছে এবং ডেটা অ্যানালাইসিস টিম প্রধান মাইকেল স্যানসোনির মাধ্যমে কম খরচে সেরা বিকল্প খেলোয়াড় খুঁজছে।
ইউনাইটেডে ফিরলে কেমন হতে পারে র্যাশফোর্ডের অভিজ্ঞতা?
১ সেপ্টেম্বরের ট্রান্সফার উইন্ডো বন্ধ হওয়ার আগে র্যাশফোর্ডের ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডেই থাকার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। ইউনাইটেডের ইতিহাসে ১৫তম সর্বোচ্চ গোলদাতা (১৩৮ গোল) এই খেলোয়াড়কে ঘিরে বর্তমান বাজারে খুব বেশি আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না। গ্যারি নেভিলের মতো অনেকে মনে করেন ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে তার সময় শেষ হয়ে গেছে, কিন্তু পরিস্থিতি তাকে ফেরানোর দিকেই নিয়ে যাচ্ছে।
র্যাশফোর্ডের বন্ধু ও রেক্সহ্যাম ফরোয়ার্ড স্যাম স্মিথ বলেন, “সুস্থ এবং মনোযোগী র্যাশফোর্ড বিশ্বের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হতে পারে। সে ইউনাইটেডে কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে গেছে। আমি আশা করি সে ফিরে আসবে এবং আবার গোল করা শুরু করবে।”
