খেলোয়াড় বিক্রি করে রিয়াল মাদ্রিদের নতুন রেকর্ড, আয় ১৮৯ মিলিয়ন ইউরো
রিয়াল মাদ্রিদ এই গ্রীষ্মকালীন দলবদলের বাজারে অভূতপূর্ব কিছু পরিবর্তন এনেছে। ক্লাবটি ডেনজেল ডামফ্রিস, বার্নার্ডো সিলভা, মার্ক কুকুরেল্লা, ইব্রাহিমা কোনাতে এবং কার্লোস এস্পির মতো খেলোয়াড়দের দলে ভিড়িয়েছে। পাশাপাশি লস ব্লাঙ্কোসরা আরবি লাইপজিগ থেকে ইয়ান দিওমান্দে এবং ম্যানচেস্টার সিটি থেকে রদ্রিকে সই করানোর জন্যও কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
তবে এই ট্রান্সফার উইন্ডো শুধুমাত্র নতুন খেলোয়াড় সই করানোর জন্যই স্মরণীয় নয়, বরং খেলোয়াড় বিক্রির মাধ্যমে ক্লাবটি যে সাফল্য পেয়েছে সেটিও উল্লেখযোগ্য। এএস (AS)-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই গ্রীষ্ম রিয়াল মাদ্রিদের ইতিহাসে খেলোয়াড় বিক্রির দিক থেকে সবচেয়ে লাভজনক সময়ে পরিণত হয়েছে।
একাডেমির সাফল্য অব্যাহত
গঞ্জালো গার্সিয়া এবং সিজার পালাসিওস ফুলহ্যামে যোগ দেওয়ার ফলে লস ব্লাঙ্কোসের মোট আয়ের পরিমাণ ১৮৯ মিলিয়ন ইউরোতে দাঁড়িয়েছে। এটি ক্লাবের আগের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে এবং লা ফাব্রিকার (La Fabrica) বিশাল গুরুত্বকে পুনরায় প্রমাণ করেছে।
এই গ্রীষ্মে অর্জিত ১৮৯ মিলিয়ন ইউরোর প্রতিটি সেন্টই এসেছে রিয়াল মাদ্রিদের নিজস্ব একাডেমি থেকে উঠে আসা বা একাডেমির সাথে শক্তিশালী সম্পর্ক রয়েছে এমন খেলোয়াড়দের বিক্রি থেকে। এর মধ্যে নিকো পাজকে কোমো ক্লাবের কাছে ৬০ মিলিয়ন ইউরোয় বিক্রি করা ছিল সবচেয়ে বড় চুক্তি। এছাড়াও গঞ্জালো গার্সিয়াকে ৪০ মিলিয়ন ইউরোয় ফুলহ্যামে বিক্রি করা ছিল এই মৌসুমের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আয়ের উৎস। একইসাথে ভিক্টর মুনোজ (২০.৫ মিলিয়ন), মারিও জিলা (১৫ মিলিয়ন), আলভারো রদ্রিগেজ (১২.৫ মিলিয়ন), অ্যালেক্স হিমেনেজ (১২.৫ মিলিয়ন), সিজার পালাসিওস (১০ মিলিয়ন) এবং আরও বেশ কয়েকজন একাডেমি গ্র্যাজুয়েট এই রেকর্ড পরিমাণ আয়ে অবদান রেখেছেন।
আরও আয়ের সম্ভাবনা
এই ১৮৯ মিলিয়ন ইউরোই চূড়ান্ত অঙ্ক নাও হতে পারে। রিয়াল মাদ্রিদ বর্তমানে আরও বেশ কিছু খেলোয়াড়কে দলবদলের প্রক্রিয়ায় রেখেছে। এর মধ্যে রয়েছে ফুলহ্যামের আগ্রহে থাকা থিয়াগো পিতার্চ, স্ট্রাসবার্গের লক্ষ্যবস্তু ইয়াকোবো ওর্তেগা এবং সার্জিও আরিবাসকে ঘিরে সম্ভাব্য ট্রান্সফার, যেখানে সেল-অন চুক্তির কারণে ক্লাবটি ট্রান্সফার ফির ৫০ শতাংশ পাবে। যদি এসব চুক্তি সম্পন্ন হয়, তবে ট্রান্সফার উইন্ডো বন্ধ হওয়ার আগেই ক্লাবটির আয় ২০০ মিলিয়ন ইউরো ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
মোরিনহোর নতুন প্রকল্প ও একাডেমির ভূমিকা
এই বিক্রির সময়টি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এটি হোসে মোরিনহোকে তার নতুন প্রজেক্টের জন্য প্রয়োজনীয় খেলোয়াড় সই করানোর সুযোগ করে দিয়েছে। নতুন খেলোয়াড় কেনার জন্য বোর্ডের ওপর বড় ধরনের চাপ না দিয়ে লা ফাব্রিকার এই বিক্রয়লব্ধ অর্থ সরাসরি মূল দলের শক্তি বৃদ্ধিতে সাহায্য করেছে। রিয়াল মাদ্রিদ সবসময়ই এই মডেলটি সফলভাবে ব্যবহার করে আসছে এবং এই গ্রীষ্মের ট্রান্সফার উইন্ডো সেই দর্শনেরই চূড়ান্ত রূপ। লস ব্লাঙ্কোসরা যদি ২০২৬-২৭ মৌসুমে স্মরণীয় কোনো সাফল্য পায়, তবে এই খেলোয়াড় বিক্রির সিদ্ধান্তগুলোকেই সেই সাফল্যের ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হবে। গ্রীষ্মকালীন দলবদলের সময় শেষ হওয়া পর্যন্ত ক্লাবটি তাদের আয়ের পরিমাণ আরও কতদূর নিয়ে যেতে পারে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
