২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে স্পেনের জয়
নিউ জার্সির ইস্ট রাদারফোর্ডে অনুষ্ঠিত ২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনা এবং স্পেনের লড়াই অনেকটা বিশৃঙ্খল রূপ নিয়েছিল। তবে মাঠের খেলায় স্পেন এবং তাদের তারকা মিডফিল্ডার রদ্রি নিজেদের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে অসাধারণ পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছেন।
আরও পড়ুন — মেসির ব্যাটন নিলেন দুর্দান্ত ইয়ামাল
রবিবার মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়েছে স্পেন। রদ্রি এবং তার সতীর্থরা লিওনেল মেসিকে পুরো ম্যাচে কার্যত অকেজো করে রেখেছিলেন। এমনকি আর্জেন্টিনা ১০ জনের দলে পরিণত হওয়ার অনেক আগেই তারা ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়।
পুরো ম্যাচে আর্জেন্টিনা একবারও গোলপোস্টের দিকে শট নিতে পারেনি। মেসি বা তার দলের কেউই স্পেনের বক্সে দুইবারের বেশি বল স্পর্শ করতে পারেননি। স্পেনের গোলরক্ষক উনাই সিমন কার্যত পুরো ম্যাচ অলস সময় পার করেছেন।
আরও পড়ুন — বিশ্বকাপ ফাইনালের জন্য নিউ ইয়র্ক এক উপযুক্ত ভেন্যু
ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ের প্রথমার্ধে যখন রদ্রি মাঠ ছাড়েন, তখন পর্যন্ত মেসির মোট বল টাচ ছিল ২৯টি। অন্যদিকে, ম্যাচের নেপথ্য কারিগর রদ্রির বল টাচ ছিল ১১৬টি। আর্জেন্টিনা তাদের সেরা খেলোয়াড় মেসির কাছে বল পৌঁছে দিতে গিয়ে বারবার ব্যর্থ হয়েছে। তারা মাঠজুড়ে কঠোর ফাউল এবং অখেলোয়াড়সুলভ আচরণ করলেও কাজের কাজ কিছুই করতে পারেনি।
রদ্রির দাপটে ফাইনালে নিষ্প্রভ মেসি
ফুটবল বিশ্বের সর্বকালের সেরা খেলোয়াড়দের একজন লিওনেল মেসিকে ২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালে নিজের নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন রদ্রি। স্পেনের এই জয়ের কারিগর বর্তমানে নিজের প্রজন্মের সবচেয়ে কার্যকর মিডফিল্ডার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
ম্যানচেস্টার সিটির কোচ পেপ গার্দিওলা রদ্রিকে এই বিশেষ দায়িত্বের জন্য তৈরি করেছিলেন। সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়েই তিনি প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসের অন্যতম প্রভাবশালী খেলোয়াড় হয়ে উঠেছেন। এই টুর্নামেন্টেও তিনি তার দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন।
ম্যাচে রদ্রির পরিসংখ্যান ছিল নজরকাড়া:
-
১০৬টি পাসের মধ্যে ১০১টি সঠিক পাস সম্পন্ন করেছেন
-
ফাইনাল থার্ডে ১৬টি পাস (ম্যাচের সর্বোচ্চ)
রদ্রি কেবল পরিসংখ্যানের বিচারে নন, মাঠের পজিশনিংয়ের ক্ষেত্রেও ছিলেন অনন্য। মেসি যখনই বিপজ্জনক জায়গা তৈরির চেষ্টা করেছেন, রদ্রি তখনই সেই পথ বন্ধ করে দিয়েছেন। ৩৯ বছর বয়সী লিওনেল মেসি এই টুর্নামেন্টে আটটি গোল করলেও ফাইনালের ম্যাচে তিনি কোনো শট নেওয়ার সুযোগই পাননি।
