বার্সেলোনার প্রস্তাব ফিরিয়ে সাম্পদোরিয়ায় যোগ দিয়েছিলেন লিভারপুল কিংবদন্তি গ্রায়েম সুনেস
লিভারপুল কিংবদন্তি গ্রায়েম সুনেস জানিয়েছেন, ১৯৮৪ সালে ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়ন লিভারপুল ছাড়ার সময় তিনি বার্সেলোনায় যোগ দেওয়ার সুযোগ ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। স্কটল্যান্ডের এই মিডফিল্ডার রোমার বিপক্ষে লিভারপুলের চতুর্থ ইউরোপীয় কাপ জয়ের কয়েক সপ্তাহ পরই ৬ লাখ ৫০ হাজার পাউন্ডের বিনিময়ে ইতালীয় ক্লাব সাম্পদোরিয়ায় যোগ দেন।
সে সময় সুনেস বিশ্বের অন্যতম সেরা মিডফিল্ডার ছিলেন। সেই বছর ব্যালন ডি’অর তালিকায় তিনি ষষ্ঠ স্থানে ছিলেন। তাই ইউরোপের বড় কোনো ক্লাবে না গিয়ে জেনোয়ার ক্লাবে তার যোগ দেওয়াটা অনেকের কাছেই ছিল বিস্ময়কর।
বিবিসি স্কটল্যান্ডের দ্য স্যাটারডে শো-তে সুনেস বলেন, “আমাকে লিভারপুল ছাড়তে হয়েছিল কারণ আমার তৎকালীন স্ত্রী উত্তরাধিকারসূত্রে অর্থ পেতে যাচ্ছিলেন এবং তাকে তিন বছর দেশের বাইরে থাকতে হতো।”
তিনি আরও বলেন, “আমি কোনোভাবে হয়তো এটি এড়িয়ে যেতে পারতাম, কিন্তু আমি চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিই কারণ সেই সময়ে ইতালিতে যাওয়াটাই ছিল সেরা সিদ্ধান্ত। বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়রা তখন সেখানেই যাচ্ছিল।”
সুনেস জানান, “বার্সেলোনা আমাকে দুই বছরের চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছিল, যা আমি ফিরিয়ে দিই। কারণ আমার তিন বছরের চুক্তি প্রয়োজন ছিল, এমনকি আমার বয়সের কারণেও আমি তৃতীয় বছর পর্যন্ত থাকতে চেয়েছিলাম।”
তিনি যোগ করেন, “ইতালির আরও কয়েকটি ক্লাব আমার ব্যাপারে আগ্রহী ছিল। তবে সাম্পদোরিয়া তখন পাওলো মানতোভানির মালিকানাধীন ছিল এবং তিনি একটি তরুণ দল গঠন করছিলেন। তার একজন অভিজ্ঞ খেলোয়াড় প্রয়োজন ছিল। এভাবেই আমি সেখানে গিয়েছিলাম।”
বার্সেলোনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পর সুনেস সাম্পদোরিয়ায় দুই মৌসুমে ইতালীয় কাপ জয় করেন। এরপর ১৯৮৬ সালে খেলোয়াড়-ম্যানেজার হিসেবে রেঞ্জার্সে যোগ দেন তিনি। আইব্রক্স ক্লাবে দায়িত্ব পালনকালে পাঁচ বছরে তিনি দলকে সাফল্যের চূড়ায় নিয়ে যান। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তিনি ক্লাবকে কোচ নিয়োগের বিষয়ে পরামর্শ দিয়ে আসছেন।
তবে মার্টিন ও’নিল যেমন সেল্টিকে ফিরে এসেছিলেন, সুনেস নিজে তেমনটা করবেন না বলে জানিয়েছেন। তার ভাষ্যমতে, তার কঠোর ব্যবস্থাপনা শৈলী বর্তমানের খেলোয়াড়দের জন্য উপযুক্ত নয়।
৭৩ বছর বয়সী সুনেস বলেন, “না, মার্টিনের ব্যক্তিত্ব আমার চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা। সে খুব ভালো মানুষ।”
তিনি আরও বলেন, “আমি ৩৩ বছর বয়সে ব্যবস্থাপনা শুরু করি এবং তখন ফুটবলের কর্মক্ষেত্র আজকের চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন ছিল। আমার ব্যবস্থাপনা শৈলী, হয়তো কাউকে তার অপছন্দের কথা সরাসরি বলে দেওয়ার অভ্যাস, আজকের দিনে কাজে আসবে না। ফুটবলে কিছুটা কঠোরতা প্রয়োজন, কিন্তু আজকের খেলোয়াড়রা কি তা মেনে নেবে? আমার সন্দেহ আছে।”
‘সেল্টিকের মনে ভয়ের বীজ বুনে দিয়েছে রেঞ্জার্স’
এই সপ্তাহে সুনেসের নতুন বই ‘মাই রেঞ্জার্স: হাউ আই চেঞ্জড স্কটিশ ফুটবল ফর এভার’ প্রকাশিত হয়েছে। তিনি মনে করেন, সেপ্টেম্বরে ডেরেক ম্যাকইনসের অধীনে রেঞ্জার্স দুটি ওল্ড ফার্ম জয়ে সেল্টিকের ওপর মানসিক আধিপত্য বিস্তার করেছে।
রেঞ্জার্স আইব্রক্সে লিগ কাপে সেল্টিককে ৩-০ গোলে হারায় এবং এক সপ্তাহ পর সেল্টিক পার্কে প্রিমিয়ারশিপে ১-০ ব্যবধানে জয়ী হয়। বর্তমানে পয়েন্ট টেবিলে চ্যাম্পিয়নদের চেয়ে তারা দুই পয়েন্ট পিছিয়ে আছে।
সুনেস বলেন, “তারা এখন সেল্টিকের মনে এই ভয়ের বীজ বুনে দিয়েছে যে, গত দুটি ম্যাচে রেঞ্জার্স তাদের চেয়ে বড়, শক্তিশালী এবং ভালো খেলেছে।”
তিনি আরও বলেন, “সেল্টিক ৩-০ ব্যবধানে হারার পর ভেবেছিল, ‘কীভাবে এমনটা হলো?’ এটা রেঞ্জার্সের জন্য ভাগ্যের সহায় ছিল না। সাত দিন পর, একজন সেল্টিক সমর্থক, খেলোয়াড় বা স্টাফ হিসেবে আপনি ভাবতেন ‘এমনটা আর হবে না’। কিন্তু সেটি আবারও হয়েছে, তাও তাদের নিজেদের মাঠে।”
সুনেস যোগ করেন, “তাদের এখন সেল্টিকের ওপর মানসিক আধিপত্য রয়েছে। তবে কোনো ছোট দলের কাছে রেঞ্জার্স হেরে গেলে এই সুবিধা দীর্ঘস্থায়ী নাও হতে পারে। তারা নিজেদের একটি শক্ত অবস্থানে নিয়ে এসেছে। ডেরেককে অবশ্যই মনে করিয়ে দিতে হবে যে, প্রতিটি ম্যাচই প্রতিপক্ষের জন্য ফাইনালের মতো। ডেরেক একজন খেলোয়াড় হিসেবে স্কটিশ ফুটবল সম্পর্কে ভালো জানেন। তাই তিনি সঠিক পছন্দ ছিলেন। যদিও তার শুরুটা ধীর ছিল, তবে শেষ কয়েকটি ম্যাচে তারা দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে।”
