সেউটা সীমান্তে অভিবাসন সংকট: ২০৩০ বিশ্বকাপ আয়োজক হওয়া নিয়ে পুনর্বিবেচনার আহ্বান স্পেনের শরিক দলের
স্পেনের সিউটা ছিটমহলে সম্প্রতি সৃষ্ট বড় ধরনের অভিবাসন সংকটের পর, দেশটির ক্ষমতাসীন জোট সরকারের শরিক দল মরক্কোর সঙ্গে যৌথভাবে ২০৩০ বিশ্বকাপ আয়োজনের পরিকল্পনাটি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে।
সমাজবাদী জোট সরকারের অংশীদার ছোট বামপন্থী দল ‘সুমার’ বুধবার স্পেনের পার্লামেন্টে এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব উত্থাপন করেছে। দলটি মরক্কো এবং পর্তুগালের সঙ্গে যৌথভাবে ২০৩০ ফুটবল বিশ্বকাপ আয়োজনের পরিকল্পনাটি নতুন করে পর্যালোচনার জন্য স্পেনের ক্রীড়া কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
৩৫০ সদস্যের পার্লামেন্টে সুমারের মাত্র ২৬টি আসন থাকলেও, প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের সরকারে তাদের মন্ত্রিত্ব থাকায় তাদের প্রভাব বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। সিউটা সংকট নিয়ে প্রধানমন্ত্রী সানচেজ ইতিমধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্যান্য সদস্য দেশগুলোর সমালোচনার মুখে পড়েছেন।
এই প্রস্তাবটি আইনত বাধ্যতামূলক নয় এবং বর্তমানে ছোট বামপন্থী দলগুলোর বাইরে এটি অন্য দলগুলোর কাছ থেকে সমর্থন পাওয়ার সম্ভাবনাও কম।
সিউটায় গত সপ্তাহের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এই পর্যালোচনার আহ্বান জানানো হয়েছে, যেখানে হাজার হাজার মানুষ মরক্কোর সীমান্ত পেরিয়ে ইউরোপীয় ছিটমহলে প্রবেশ করেছিল। প্রধানমন্ত্রী সানচেজ মরক্কোর কর্তৃপক্ষের ভূমিকা প্রকাশ্যে সমর্থন করে জানিয়েছেন, তারা দ্রুত সীমান্ত পার হওয়া প্রায় ৭২,০০০ মানুষের মধ্যে অধিকাংশকে ফেরত পাঠাতে সহায়তা করেছে। তবে স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১,০০০ শিশুসহ প্রায় ২,০০০ মানুষ এখনো সিউটায় রয়ে গেছে।
বিরোধীরা এবং এমনকি স্পেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রীও সিউটা সংকটের বিষয়ে মরক্কোর কাছ থেকে আরও বিস্তারিত ব্যাখ্যা দাবি করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সীমান্ত অতিক্রমের প্ররোচনামূলক পোস্টের কারণে এই সংকট তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার মরক্কো থেকে সিউটায় যাওয়ার জন্য ব্রেকওয়াটার এবং সীমান্ত বেড়া পেরিয়ে সমুদ্রে সাঁতরে যাওয়ার সময় ৮০ জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।
সুমার দলের এমপি এবং এই প্রস্তাবের অন্যতম উদ্যোক্তা নাহুয়েল গঞ্জালেজ অভিবাসনকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের জন্য মরক্কোকে অভিযুক্ত করেছেন। স্প্যানিশ সম্প্রচার মাধ্যম টিভিই-কে তিনি বলেন, “মরক্কোর রাষ্ট্র ও রাজতন্ত্র মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল নয়। তারা রাজনৈতিক চাপের মুখে ফেলার জন্য অভিবাসীদের ব্যবহার করছে।”
গঞ্জালেজ স্পষ্ট করে বলেননি যে সুমার মরক্কোকে বাদ দেওয়া নাকি স্পেনকে আয়োজন থেকে সরে আসার কথা বলছে। তবে তিনি জানান, “আমরা চাই স্পেনের ক্রীড়া প্রতিষ্ঠানগুলো মরক্কোর সঙ্গে যৌথভাবে বিশ্বকাপ আয়োজনের বিষয়টি পুনরায় বিবেচনা করুক, কারণ আমরা মনে করি মানবাধিকার রক্ষার বিষয়টি আমাদের অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।”
পর্তুগালের ছোট পার্লামেন্টারি দল ‘লিভরে’-ও একই উদ্বেগের কথা জানিয়েছে। তারা পর্তুগালের প্রধানমন্ত্রী লুইস মন্টিনিগ্রো এবং পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের প্রেসিডেন্টের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছে। সিউটা সংকটের পর এই বিশ্বকাপ আয়োজনের বিডকে তারা “অস্থিতিশীল” হিসেবে বর্ণনা করে তা পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছে।
২০৩০ বিশ্বকাপের অধিকাংশ ম্যাচ স্পেন, মরক্কো ও পর্তুগালের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া ১৯৩০ সালে উরুগুয়েতে অনুষ্ঠিত প্রথম বিশ্বকাপের শতবর্ষ উদযাপনের অংশ হিসেবে আর্জেন্টিনা, প্যারাগুয়ে ও উরুগুয়েতে একটি করে ম্যাচ আয়োজিত হবে।
