আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন স্পেন
ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপ জয় করেছে স্পেন। আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে পরাজিত করে এই শিরোপা অর্জন করে স্পেন।
বিবিসি স্পোর্ট সাংবাদিক নিল জনস্টন নিউ জার্সিতে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করেছেন।
স্পেন
মূল একাদশ
উনাই সিমন: ম্যাচের শুরুর দিকে বক্সের বাইরে এসে কিছুটা ঝুঁকি তৈরি করলেও পরে নিজেকে সামলে নেন। তার দৃঢ়তায় দুই বছর আগের ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নশিপের পর এবার বিশ্বকাপ জিতল স্পেন। ৭
মার্ক কুকুরেল্লা: বেশ কয়েকবার আক্রমণে উঠেছেন এবং প্রথমার্ধে একটি ভালো সুযোগ পেলেও বল সামান্য বাইরে দিয়ে চলে যায়। ৭
এমেরিক লাপোর্তে: পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে রক্ষণভাগের দেয়াল হয়ে ছিলেন। এই ম্যাচেও স্পেনের আট ম্যাচের মধ্যে সপ্তম ক্লিনশিট বজায় রাখতে ভূমিকা রাখেন। ৭
পাউ কুবার্সি: রক্ষণভাগে পুরো টুর্নামেন্টের মতোই শান্ত ছিলেন। ১৯৬৬ সালের পর তিনি বিশ্বকাপের ফাইনালে ১০০টির বেশি পাস সম্পন্ন করা দ্বিতীয় খেলোয়াড়। ৮
পেদ্রো পোরো: সেমিফাইনালের ধারাবাহিকতায় ফাইনালেও ভালো খেলেছেন এবং জয়সূচক গোলটিতে অবদান রেখেছেন। ৭
ফাবিয়ান রুইজ: মাঝমাঠে কঠোর পরিশ্রম করেছেন, যেখানে আর্জেন্টিনা নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখতে হিমশিম খেয়েছে। ৭
রদ্রি: অধিনায়ক হিসেবে মাঝমাঠ নিয়ন্ত্রণ করেছেন এবং ২০১০ সালের পর স্পেনের প্রথম বিশ্বকাপ জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ৭
অ্যালেক্স বায়েনা: পুরো ম্যাচ জুড়ে মাঠে সক্রিয় থেকে প্রতিপক্ষকে চাপে রেখেছেন। ৭
দানি ওলমো: ২০২৪ সালের ইউরো ও ২০২৩ সালের নেশনস লিগ জয়ের পর এই ম্যাচেও তিনি সুযোগ তৈরি করেছেন। ৭
লামিন ইয়ামাল: ১৯ বছর বয়সে বিশ্বকাপ জয়ের পদক পেলেন এই তরুণ। ফাইনালে বক্সের ভেতর প্রথম সুযোগটিও তার পায়ে এসেছিল। ৭
মিকেল ওয়ারজাবাল: টুর্নামেন্টজুড়ে দুর্দান্ত খেললেও ফাইনালে বড় সময় তাকে নিস্তেজ রাখা হয়। তবে পাঁচটি গোল করে দলের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে টুর্নামেন্ট শেষ করলেন। ৭
বিকল্প খেলোয়াড়
পেদ্রি (৬২ মিনিট): মাঠে নেমে দলের গতি বাড়িয়েছিলেন। ৭
ফেরান তোরেস (৬২ মিনিট): স্পেনের খেলায় গতি এনেছেন এবং অতিরিক্ত সময়ে সুযোগ পেয়ে গোল করে দলের জয় নিশ্চিত করেন। ৮
নিকো উইলিয়ামস (৭৫ মিনিট): তার প্রভাব ছিল চোখে পড়ার মতো। বল পায়ে নিয়ে স্পেনের আক্রমণের ধার বাড়িয়েছেন এবং জয়সূচক গোলটিতে ভূমিকা রাখেন। ৯
মিকেল মেরিনো (৭৫ মিনিট): টুর্নামেন্টের গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচেও নিজের দায়িত্ব পালন করেছেন। ৬
এরিক গার্সিয়া (৯৯ মিনিট): অতিরিক্ত সময়ে নেমে কঠোর পরিশ্রম করেছেন। ৬
মার্টিন জুবিমেন্ডি (৯৯ মিনিট): দলের ফুটবল ইতিহাসের গৌরবময় দিনে নিজের ভূমিকা পালন করেছেন। ৬
আর্জেন্টিনা
মূল একাদশ
এমিলিয়ানো মার্টিনেজ: নির্ধারিত সময়ের শেষ দিকে লামিন ইয়ামালের ফ্রি-কিক অসাধারণ দক্ষতায় আটকে দিয়েছেন। ৬
নিকোলাস তাগলিয়াফিকো: বেশ অনেকটা সময় স্পেনকে আটকে রাখার চেষ্টা করেছেন। ৬
লিসান্দ্রো মার্টিনেজ: মিকেল ওয়ারজাবালকে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন এবং চোটের কারণে প্রথমার্ধেই তাকে মাঠ ছাড়তে হয়। ৫
ক্রিস্টিয়ান রোমেরো: স্পেনের সর্বোচ্চ গোলদাতা ওয়ারজাবালকে চাপে রেখেছিলেন। প্রতিবাদ জানিয়ে হলুদ কার্ড দেখেন। ৬
গঞ্জালো মন্তিয়েল: দানি ওলমোর নিচু ক্রস থেকে গোল বাঁচিয়ে দারুণ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। ৬
নিকো গঞ্জালেজ: আর্জেন্টিনা প্রথমার্ধে কোনো আক্রমণ তৈরি করতে না পারায় বিরতির পর তাকে তুলে নেওয়া হয়। ৫
অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার: দানি ওলমোর বিপক্ষে দেরিতে ট্যাকল করেও কার্ড দেখা থেকে বেঁচে যান। ৫
এনজো ফার্নান্দেজ: পাউ কুবার্সির বিপক্ষে খারাপ ট্যাকল করায় লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। ২০০৬ সালের পর এটি আর্জেন্টিনার প্রথম লাল কার্ড। ৪
রদ্রিগো দি পল: ম্যাচে কোনো প্রভাব ফেলতে পারেননি এবং দ্বিতীয়ার্ধে তাকে তুলে নেওয়া হয়। ৫
হুলিয়ান আলভারেজ: স্পেনের আধিপত্যের দিনে তিনি নিজের উপস্থিতি সেভাবে জানান দিতে পারেননি। ৫
লিওনেল মেসি: এটিই যদি তার বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচ হয়, তবে তা ছিল কিছুটা হতাশাজনক। স্পেনের রক্ষণভাগকে সেভাবে পরীক্ষা করতে পারেননি এবং আট গোল করে টুর্নামেন্ট শেষ করেন। ৬
বিকল্প খেলোয়াড়
নিকোলাস ওটামেন্ডি (৪১ মিনিট): প্রথমার্ধের শেষে মাঠে নেমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। ৫
লেয়ান্দ্রো পারেদেস (৪৬ মিনিট): মাঠে নামার অল্প সময়ের মধ্যেই রদ্রিকে ধাক্কা দিয়ে হলুদ কার্ড দেখেন। ৩
নাহুয়েল মলিনা (৫০ মিনিট): ফাইনালে হারের মাধ্যমে হতাশাজনকভাবে তার বিশ্বকাপ শেষ হলো। ৫
ফাকুন্দো মেদিনা (৭০ মিনিট): সেরা দল হিসেবে স্পেনের জয়ের দিনে তিনি কিছুই করতে পারেননি। ৪
জিওভানি সিমিওনে (৭০ মিনিট): কোপা আমেরিকা জয়ী দলের এই খেলোয়াড় সেভাবে খেলায় প্রভাব ফেলতে পারেননি। ৪
মার্কোস সেনেসি (১০২ মিনিট): মাঠে নেমে তেমন কোনো পরিবর্তন আনতে পারেননি, আর্জেন্টিনা টানা ষষ্ঠ ম্যাচে গোল খেয়ে ফাইনাল হারে। ৪
