ডান্ডির বিপক্ষে সেলটিকের জয়ে কিয়েরন টিয়ারনির নৈপুণ্য
নতুন মৌসুমের শুরুতে ডান্ডির মতো শক্ত প্রতিপক্ষের বিপক্ষে এক কঠিন ম্যাচে জয় দিয়ে শুরু করল সেলটিক। তবে এই জয়ের নেপথ্যে পরিচিত এক নাম কিয়েরন টিয়ারনি। যদিও গত মৌসুমে সর্বোচ্চ গোলদাতা বেঞ্জামিন নাইগ্রেন জয়সূচক গোলটি করেছেন, কিন্তু সেই গোলটির জন্য নিখুঁত ক্রসটি এসেছিল টিয়ারনির পা থেকেই।
জানুয়ারিতে মার্টিন ও’নিল পুনরায় দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে লেফট-ব্যাক হিসেবে টিয়ারনি নিঃসন্দেহে সেলটিকের সেরা পারফর্মার। এক সময় আর্সেনালে প্রায় ২৫ মিলিয়ন পাউন্ডে দলবদলের রেকর্ড গড়া এই ফুটবলারকে নিয়ে প্রত্যাশা অনেক বেশি। গত মৌসুমেও তিনি ১২টি অ্যাসিস্ট করেছেন, যা দলের মধ্যে সর্বোচ্চ। পাশাপাশি রক্ষণভাগ সামলানোর পাশাপাশি তিনি ৬টি গোলও করেছেন। ২০৩০ সাল পর্যন্ত চুক্তিবদ্ধ এই তারকাকে নিয়ে স্প্যানিশ ক্লাবে ফেরার গুঞ্জন থাকলেও, সেলটিকের জন্য তিনি কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না।
‘পুরানো কিয়েরন টিয়ারনিকে মনে করিয়ে দিলেন তিনি’
ডান্ডির বিপক্ষে ম্যাচে গোলমুখে সবচেয়ে বেশি শট নেওয়া খেলোয়াড় ছিলেন টিয়ারনি। তিনি সতীর্থদের জন্য চারটি গোল করার সুযোগ তৈরি করেছেন এবং আটটি ক্রস পাঠিয়েছেন, যা পুরো ম্যাচে সর্বোচ্চ। প্রধান ক্রীড়া লেখক টম ইংলিশ বলেন, “তাকে দেখে মনে হচ্ছিল যেন সেই পুরনো কিয়েরন টিয়ারনি। তিনি বল নিয়ে এগিয়ে গেছেন, বক্সে ঢুকে শট নিয়েছেন এবং রক্ষণাত্মক দায়িত্বও দারুণভাবে পালন করেছেন। সব মিলিয়ে তিনি ছিলেন চমৎকার।”
প্রথমার্ধে ডান্ডি যেভাবে রক্ষণাত্মক ও আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে সেলটিককে চাপে রেখেছিল, তাতে জয়ের পথ খুঁজে পাওয়া সহজ ছিল না। কিন্তু টিয়ারনির বাঁ পায়ের জাদুতে সেই বাধা দূর হয়। তার নিখুঁত ক্রস থেকেই নাইগ্রেন ছয় গজ দূর থেকে হেডে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন।
মার্টিন ও’নিলের দলের সাফল্যের পেছনে টিয়ারনির অবদান অনেক পুরনো। গত মৌসুমে ফালকার্কের ক্যালভিন মিলারের পর তিনিই ছিলেন সবচেয়ে বেশি অ্যাসিস্ট করা খেলোয়াড়। দলের অধিনায়ক ক্যালাম ম্যাকগ্রেগর এবং টিয়ারনিকে নিয়ে ও’নিল বলেন, “এরা আসলে ফুটবল ক্লাবটিকেই ধরে রেখেছে। তারা সেলটিকের মেরুদণ্ড এবং আমি তাদের পেয়ে খুবই আনন্দিত।”
বর্তমানে মার্সেলো সাররাচি ধারে খেলতে এসে ফিরে যাওয়ায় দলে টিয়ারনির বিকল্প কোনো অভিজ্ঞ লেফট-ব্যাক নেই। এ বিষয়ে ও’নিল জানান, তারা নতুন কাউকে দলে নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখছেন, কারণ প্রতিটি ম্যাচে টিয়ারনির ওপর পুরো চাপ দেওয়া কঠিন।
স্প্যানিশ আগ্রহ থাকলেও টিয়ারনি ‘কোথাও যাচ্ছেন না’ – ব্রাউন
গুঞ্জন রয়েছে, ওসাসুনা টিয়ারনিকে দলে নিতে আগ্রহী। তবে সেলটিকের নীতিনির্ধারকরা ২৯ বছর বয়সী এই ফুটবলারের জন্য আসা যেকোনো প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার ইঙ্গিত দিয়েছেন। টিয়ারনির সাবেক অধিনায়ক স্কট ব্রাউন বলেন, “কিয়েরন কোথাও যাচ্ছে না, সে এই ক্লাবকে ভালোবাসে।”
ব্রাউন আরও যোগ করেন, “আমি তাকে খেলতে দেখতে ভালোবাসি। তার লড়াই করার ক্ষমতা, প্যাশন এবং নির্ভুল ক্রস দেওয়ার দক্ষতা অসাধারণ। কেন সে আর্সেনালে গিয়েছিল তা এখন সহজেই বোঝা যায়। সেলটিক ভাগ্যবান যে টিয়ারনি, ম্যাকগ্রেগর এবং জেমস ফরেস্টের মতো খেলোয়াড়রা দীর্ঘ সময় ধরে তাদের সাথে আছে।”
অধিনায়ক ক্যালাম ম্যাকগ্রেগরকেও মৌসুমের শুরুতে বেশ ফুরফুরে মনে হয়েছে। ব্রাউনের মতে, ম্যাকগ্রেগর দলের মস্তিষ্ক। তিনি তরুণ খেলোয়াড়দের পরামর্শ দিয়ে বলেন, “যদি কোনো ছোট বাচ্চা ফুটবল শিখতে চায়, তবে তারা যেন ম্যাকগ্রেগর, টিয়ারনি এবং ফরেস্টের খেলা দেখে। দীর্ঘ সময় ধরে সেলটিকের মতো ক্লাবে টিকে থাকতে হলে খেলার সব দিক বুঝতে হয়।”
