থমাস টুখেলের কৌশলী ভুলে বিশ্বকাপ ফাইনালের স্বপ্নভঙ্গ ইংল্যান্ডের
ইংল্যান্ড দলের কোচ থমাস টুখেলের ভুলে শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনালে ওঠা হলো না ইংল্যান্ডের।
১৯৬৬ সালের পর ইংল্যান্ডের সামনে সবচেয়ে বড় অর্জনের সুযোগ ছিল এবারের বিশ্বকাপ। অথচ এই দীর্ঘ পথচলা শেষ হলো হতাশায়। আর্জেন্টিনার কাছে ২-১ গোলে হেরে ইংল্যান্ডের বিদায় ঘটে, যা কোনোভাবেই প্রত্যাশিত ছিল না।
ম্যাচে ইংল্যান্ড নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে, মাঠ এবং নিজেদের বক্সের চারপাশের জায়গা বিপক্ষ দলকে ছেড়ে দেয়, যার ফলে শেষ পর্যন্ত হার মেনে নিতে হয়। ম্যাচের ৬৭তম মিনিটে, অর্থাৎ দ্বিতীয় অর্ধে হাইড্রেশন ব্রেকের সময় রক্ষণভাগে পাঁচজন খেলোয়াড় নামানোর সিদ্ধান্তটি ছিল অবিশ্বাস্য। ইংলিশ ফুটবলের ইতিহাসে এটি অন্যতম বিভ্রান্তিকর মুহূর্ত হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।
থমাস টুখেলের ভুলে বিশ্বকাপ ফাইনালের স্বপ্নভঙ্গ ইংল্যান্ডের
হাইড্রেশন ব্রেকের পরই ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগের দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এই পরাজয়ের পর সমালোচনার ঝড় উঠবে, এটাই স্বাভাবিক। ইউরো ২০২০ ফাইনালের মতো এখানে কোনো ট্রফি নির্ধারণী ম্যাচ না থাকলেও, নিজেদের ভুলে এই পরাজয় আরও বেশি কষ্টদায়ক। গ্যারেথ সাউথগেট কখনোই এমনটি করেননি। এমন হারের পর প্রশ্ন উঠছে, এটি কি কোচকে ছাঁটাই করার মতো পরিস্থিতি তৈরি করেছে? এত বড় অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে এমন ফলাফল মেনে নেওয়া কঠিন।
কৌশলী দক্ষতা এবং জয় ছিনিয়ে আনার সক্ষমতার জন্য কোচকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তার এই সিদ্ধান্ত ইংল্যান্ডকে জয়ের পথ থেকে আরও দূরে সরিয়ে দিয়েছে, যা ছিল এক ধরনের কাপুরুষতা।
টুখেলের সিদ্ধান্তই ম্যাচের ফল বদলে দেয়
ফাইনালে ওঠার আনন্দে মাতোয়ারা আর্জেন্টিনা
ইংল্যান্ড সম্ভবত স্পেনকে ফাইনালে হারাতে পারত না, কিন্তু ফাইনাল খেলার সুযোগ তাদের প্রাপ্য ছিল। টুখেলের সিদ্ধান্ত ইংল্যান্ডের জেতার সম্ভাবনা কমিয়ে দেয় এবং দলের গতি ও অ্যাথলেটিসিজমের সুবিধাগুলো নষ্ট করে ফেলে।
ম্যাচে যখন ইংল্যান্ড এগিয়ে ছিল এবং পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে ছিল, তখনই কোচ শেষ ষোলোর মেক্সিকো ম্যাচের পুনরাবৃত্তি করতে চান। কিন্তু এবার প্রতিপক্ষ মেক্সিকো ছিল না, ছিল আর্জেন্টিনার মতো শক্তিশালী দল। এছাড়া তাদের দলে সর্বকালের সেরা খেলোয়াড় লিওনেল মেসি ছিলেন, যিনি দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষে মাঠে নেমেছিলেন।
দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলবেন মেসি
ম্যাচের বেশিরভাগ সময় মেসি খুব একটা সক্রিয় ছিলেন না, কিন্তু টুখেলের ভুল সিদ্ধান্তের কারণে তিনি বল পাওয়ার জন্য বিপজ্জনক এলাকা পেয়ে যান। এনজো ফার্নান্দেজ গোল করেন কারণ ইংল্যান্ডের বক্সে পর্যাপ্ত খেলোয়াড় ছিল না।
দারুণ এক গোল করে সমতা ফেরান এনজো ফার্নান্দেজ
আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি সাহসী পরিবর্তন এনে ম্যাচের গতিপথ বদলে দেন, যার ফলস্বরূপ লটারো মার্টিনেজ জয়সূচক গোলটি করেন।
বিকল্প হিসেবে নেমে জয়সূচক গোলটি করেন লটারো মার্টিনেজ
অ্যান্থনি গর্ডনের গোলটি ছিল চমৎকার, কিন্তু এরপর টুখেলের নেওয়া রক্ষণাত্মক সিদ্ধান্ত ইংল্যান্ডের সব সুযোগ নষ্ট করে দেয়। এখন এই হার নিয়ে নানা মহলে প্রশ্ন উঠছে, বিশেষ করে এফএ-এর দৃষ্টিভঙ্গি এবং টুখেলের কৌশল নিয়ে। রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে বড় কোনো বিতর্ক না থাকলেও, টুখেলের সিদ্ধান্তগুলোই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দিয়েছে।
গোল করে এগিয়ে থাকলেও জয় নিয়ে ফিরতে পারেনি ইংল্যান্ড
টুখেলের সিদ্ধান্তগুলো গভীর পর্যালোচনার দাবি রাখে
