ফিফা প্রেসিডেন্টকে নিয়ে অনড় উয়েফা: বিশ্বকাপের বয়কটের সম্ভাবনা এখনও জিইয়ে
বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর ওপর আস্থা হারিয়েছে ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থা উয়েফা। ইনফান্তিনোর প্রতি ফিফার বর্তমান অবস্থানের কারণে উয়েফা তাদের কঠোর মনোভাব পরিবর্তন করছে না। এমন পরিস্থিতিতে বিশ্বকাপসহ ফিফার বিভিন্ন প্রতিযোগিতা বয়কটের পথ খোলা রেখেছে ইউরোপীয় দলগুলো।
বিশ্বকাপের স্বত্ব ব্যক্তিগত বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির পরিকল্পনার প্রতিবাদে ইংলিশ এফএ ইনফান্তিনোর প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার করে নিয়েছে। উয়েফা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইনফান্তিনোর বিতর্কিত পরিকল্পনা বাতিল হলেও তাদের দাবি পূরণ হয়নি। উয়েফার মতে, প্রধান প্রতিযোগিতাগুলোর স্বত্ব বিক্রির প্রস্তাব প্রত্যাহার করার পাশাপাশি ফুটবলকে এমন বিকৃতির হাত থেকে রক্ষা করার নিশ্চয়তা দিতে হবে।
এর আগে উয়েফা ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ (এফএফই) প্রস্তাবকে একটি ‘অস্বচ্ছ ও গোপনীয় চুক্তি’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে ইনফান্তিনোর ওপর আস্থা হারানোর কথা জানিয়েছিল। ইনফান্তিনো এই প্রস্তাবের বিনিময়ে বিভিন্ন অ্যাসোসিয়েশনকে ৪ কোটি পাউন্ড দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
বুধবারের এক সভায় ফিফা স্বীকার করেছে যে, এফএফই সংক্রান্ত বিষয়ে ‘ভুল’ হয়েছে এবং এ ধরনের প্রক্রিয়া পরিচালনার ক্ষেত্রে আরও সতর্ক হওয়া উচিত ছিল। তবে উয়েফার বক্তব্য, ইনফান্তিনোর অনুগত কর্মচারীদের সমর্থনের কারণে এই পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয়নি।
এদিকে মরক্কোর রাবাতে ফিফার সদর দপ্তরে ইনফান্তিনো তার শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ম্যাথিয়াস গ্রাফস্ট্রোম, টমাস পেয়ার, এমিলিও গার্সিয়া সিলভেরো, ড্যানিয়েল ও’টুল, এলখান মামাদভ এবং ব্রায়ান সোয়ানসন। তবে ফিফার চিফ অপারেটিং অফিসার কেভিন লামুরকে এই বৈঠকে ডাকা হয়নি, যিনি ইতিপূর্বে ইনফান্তিনোর পরিকল্পনার কড়া সমালোচনা করেছিলেন।
উয়েফা বর্তমান পরিস্থিতিতে বেশ চাপে রয়েছে। ইনফান্তিনোকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য ফিফা কাউন্সিলের জরুরি বৈঠক ডাকার প্রয়োজনীয় সমর্থন জোগাড় করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এছাড়া মার্চ মাসে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ইনফান্তিনোর বিপক্ষে একজন একক প্রার্থী খুঁজে বের করার বিষয়টিও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
উয়েফার সামনে এখন প্রধান দুটি পথ খোলা—আগামী মার্চে নির্বাচনের সময় ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে যোগ্য কাউকে দাঁড় করানো অথবা সরাসরি বয়কটের পথ বেছে নেওয়া। আগামী ৫ সেপ্টেম্বর পোল্যান্ডে শুরু হতে যাওয়া ফিফা নারী অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডসহ ছয়টি ইউরোপীয় দেশ অংশ নিচ্ছে, যা উয়েফার অবস্থানের জন্য একটি বড় পরীক্ষা হতে যাচ্ছে।
উয়েফার অভিযোগ, ইনফান্তিনো ব্যক্তিগত দায় এড়িয়ে দায়ভার অন্যদের ওপর চাপানোর চেষ্টা করছেন। অন্যদিকে, ফিফার অভ্যন্তরে ইনফান্তিনোর অনুগতদের দাবি, ইউরোপের এই প্রতিবাদ অতিরঞ্জিত। তবে ক্ষমতা ধরে রাখার লড়াইয়ে ইনফান্তিনো টিকে থাকলেও, তার বিরুদ্ধে অভ্যন্তরীণ ও বাইরের অসন্তোষ ক্রমশ বাড়ছে। এখন দেখার বিষয়, আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত কী ঘটে।
