ফিফার কাছে গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ও ব্যাখ্যা চেয়ে সময়সীমা বেঁধে দিল উয়েফা
ফুটবল বিশ্বের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফাকে (Fifa) তাদের শাসনব্যবস্থা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ার সাথে সম্পর্কিত সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র প্রকাশ করার নির্দেশ দিয়েছে ইউরোপীয় ফুটবলের অভিভাবক সংস্থা উয়েফা (Uefa)। আগামী ২ নভেম্বরের মধ্যে ফিফাকে সব প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত ফিফা কাউন্সিলে সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো তার বিতর্কিত ‘ওয়ার্ল্ড কাপ সেল-অফ’ পরিকল্পনার জন্য ক্ষমা চেয়েছেন। তবে সেই প্রস্তাবটি কীভাবে তৈরি করা হয়েছিল, তার কোনো পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা তিনি দিতে পারেননি।
বিবিসি স্পোর্টস উয়েফার পাঠানো একটি চিঠি দেখেছে। সেই চিঠিতে উয়েফার জেনারেল সেক্রেটারি থিওডোর থিওডোরিডিস অভিযোগ করেছেন, বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি বেশ কিছু “মৌলিক প্রশ্নের” উত্তর দিতে ব্যর্থ হয়েছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, “অন্যান্য অনেক প্রশ্নের উত্তর এখনও মেলেনি এবং যে তথ্য ও নথিপত্র চাওয়া হয়েছিল, তা সরবরাহ করা হয়নি।”
এই চিঠিতে মোট ৪২টি প্রশ্ন সম্বলিত আট পৃষ্ঠার একটি তালিকা রয়েছে। এতে ফিফা ফরওয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ (FFE)-এর ব্যক্তিগত বিনিয়োগ, ‘ফিফা পিস প্রাইজ’ এবং বিশ্বকাপ চলাকালীন যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগুনের ওপর বিতর্কিত সাময়িক নিষেধাজ্ঞার মতো বিষয়গুলো উঠে এসেছে।
উয়েফা তাদের চিঠিতে উল্লেখ করেছে, “এফএফই (FFE) প্রকল্প বাতিল, ভুল স্বীকার করা বা ‘সম্ভাব্য শাসন সংস্কারের’ ঘোষণা দিলেও এটি পরিষ্কার নয় যে, কীভাবে এই সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হয়েছিল অথবা কেন ফিফা কাউন্সিলকে যথাযথ সময়ে জানানো হয়নি।”
চিঠিতে আরও বলা হয়, “তথ্য বা নথিপত্র প্রকাশে কোনো অস্বীকৃতি থাকলে তার পেছনে সুনির্দিষ্ট কারণ দেখাতে হবে। এসব প্রশ্নের উত্তর এখনই প্রয়োজন। এগুলো আগামী ফিফা কাউন্সিল সভা পর্যন্ত ঝুলিয়ে রাখা যাবে না। কারণ শাসনব্যবস্থার ভবিষ্যতের সংস্কার অতীতের সিদ্ধান্তের জবাবদিহিতার বিকল্প হতে পারে না।”
তবে ফিফা যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সাড়া না দেয়, তবে উয়েফা কী পদক্ষেপ নেবে, তা চিঠিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি।
এদিকে, ইনফান্তিনো বালোগুনের ঘটনা নিয়ে ব্যাপক চাপের মুখে পড়েছেন। বিশ্বকাপে লাল কার্ড পাওয়ার পরও বালোগুন তাৎক্ষণিক নিষেধাজ্ঞা থেকে রেহাই পান। তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুরোধে ইনফান্তিনো এই সিদ্ধান্তের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করেন। ফিফা দাবি করেছিল যে তাদের শৃঙ্খলা কমিটি সম্পূর্ণ স্বাধীন, কিন্তু এখন বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আইনি পর্যালোচনা চলছে।
উয়েফা প্রশ্ন তুলেছে, “ট্রাম্প প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন যে তিনি ফিফা সভাপতির কাছে বালোগুন মামলার পুনর্বিবেচনা চেয়ে ফোন করেছিলেন। তিনি ঠিক কী করতে বলেছিলেন এবং তার জবাবে সভাপতি কী বলেছিলেন? ট্রাম্পের হস্তক্ষেপ ছাড়া কি মামলাটি পুনর্বিবেচনা করা হতো?”
একই সাথে উয়েফা অভিযোগ করেছে, ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অফ কঙ্গো বিশ্বকাপে অযোগ্য খেলোয়াড় খেলানোর পরও তাদের বিরুদ্ধে কোনো শৃঙ্খলাজনিত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, যা রীতিমতো বিস্ময়কর।
এছাড়া ফিফার এফএফই (FFE) প্রকল্প এবং এর সাথে জশুয়া কুশনারের থ্রাইভ ক্যাপিটালের সম্পর্ক নিয়েও উয়েফা বিস্তারিত প্রশ্ন করেছে। কেন কোনো উন্মুক্ত দরপত্র ছাড়াই এবং কঠোর গোপনীয়তার মধ্যে এই চুক্তি করা হলো, তা জানতে চেয়েছে তারা। একইসঙ্গে ইনফান্তিনো কি ফিফা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় বা পরবর্তী সময়ে এফএফই-তে কোনো পদ পাওয়ার আশা করছিলেন কি না, সেটিও জানতে চাওয়া হয়েছে।
উয়েফা এই তদন্তের মাধ্যমে ফিফার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে চায়, বিশেষ করে বিশ্বকাপের বিভিন্ন অসংগতিপূর্ণ সিদ্ধান্ত এবং অর্থনৈতিক লেনদেনের ক্ষেত্রে। ফিফার পক্ষ থেকে এখনো এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
