৭৫ মিলিয়ন পাউন্ডে আর্সেনালে যোগ দিচ্ছেন ব্রুনো গুইমারেস
আর্সেনাল প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে তাদের শিরোপা ধরে রাখার লড়াইয়ের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে নিউক্যাসল অধিনায়ক ব্রুনো গুইমারেস-কে ৭৫ মিলিয়ন পাউন্ডে সই করানোর চুক্তি সম্পন্ন করেছে। প্রিমিয়ার লিগ-এর এই গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়কে দলে পেতে দুই ক্লাবের মধ্যে আলোচনার পর দ্রুতই চুক্তিটি চূড়ান্ত হয়েছে।
২৮ বছর বয়সী ব্রাজিলিয়ান তারকা গুইমারেস এই গ্রীষ্মের শুরুতে নিউক্যাসল কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছিলেন যে তিনি গানারদের হয়ে খেলতে চান।
আর্সেনাল তাদের অন্যতম প্রধান ট্রান্সফার টার্গেট ব্রুনো গুইমারেসকে দলে ভিড়িয়েছে।
নিউক্যাসলের কোচ এডি হাও-এর অধীনে দলের উত্থানের সময় গুইমারেস ছিলেন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। গত বছর কারাবাও কাপ ফাইনালে ৭০ বছরের মধ্যে ক্লাবের প্রথম ঘরোয়া শিরোপা জেতায় সমর্থকদের কাছে তিনি প্রিয় পাত্র হয়ে ওঠেন।
কোচ এডি হাও-এর বিদায় এবং অ্যান্থনি গর্ডন ও স্যান্ড্রো টোনালিকে বিক্রির পর গুইমারেসের প্রস্থান নিউক্যাসলের জন্য বড় ধাক্কা। অন্যদিকে, আর্সেনাল কোচ মিকেল আর্তেতা তার শিরোপাজয়ী দলে প্রিমিয়ার লিগের অন্যতম সেরা মিডফিল্ডারকে যুক্ত করলেন।
সক্রিয় মিডফিল্ডার হিসেবে পরিচিত গুইমারেস
গুইমারেস মাঠের বহুমুখী দক্ষতাসম্পন্ন একজন মিডফিল্ডার।
বল পায়ে গুইমারেস প্রিমিয়ার লিগের অন্য মিডফিল্ডারদের তুলনায় লাইন ভেঙে নিখুঁত ও তীক্ষ্ণ পাস দেওয়ার ক্ষেত্রে অনন্য। গত গ্রীষ্মে আর্সেনাল মার্টিন জুবিমেন্ডিকে সই করিয়েছিল, যিনি আর্তেতার দলকে নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে সাহায্য করেছেন। তবে গুইমারেস মূলত তার পাস দেওয়ার কৌশলের দিক থেকে ভিন্নমাত্রা যোগ করবেন।
গুইমারেস সবসময় সামনের দিকে খেলার চেষ্টা করেন। এটি আর্সেনালকে রক্ষণাত্মক দলের বিরুদ্ধে দ্রুত আক্রমণে উঠতে সাহায্য করবে। এছাড়া লং পাসের মাধ্যমে উইংয়ে খেলার মোড় ঘোরানো বা বিপক্ষের রক্ষণের পেছনে থাকা সতীর্থকে বল বাড়িয়ে দিতে তিনি দারুণ দক্ষ।
নিউক্যাসল সমর্থকরা গুইমারেসের সৃজনশীলতাকে প্রশংসা করতেন। তবে তাদের সবচেয়ে পছন্দের দিক ছিল বল ছাড়া তার আক্রমণাত্মক মনোভাব। মিডফিল্ডের ‘ডিউয়েল’ বা দ্বৈরথে তিনি রাজা। চ্যালেঞ্জে তার আগ্রাসী মনোভাব এবং বল ফিরে পাওয়ার ক্ষমতা তাকে এডি হাও-এর অধীনে নিউক্যাসলের হৃদপিণ্ড হিসেবে গড়ে তুলেছিল।
গুইমারেস গত মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগে ৯টি গোল করেছিলেন।
দলের প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাড়াতে প্রমাণিত মানের খেলোয়াড়
গুইমারেসের জেদ আর কঠোর মানসিকতা আর্তেতার চাহিদার সাথে পুরোপুরি খাপ খায়। আর্সেনাল শেষবার টানা দুই মৌসুমে লিগ শিরোপা জিতেছিল ১৯৩৪ সালে। ২০০৯ সালের পর কেবল পেপ গার্দিওলার ম্যানচেস্টার সিটিই প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা ধরে রাখতে পেরেছে। আগের শিরোপাজয়ী দলগুলো পরবর্তী মৌসুমে একই তীব্রতা ধরে রাখতে ব্যর্থ হলে কী হয়, তা গত দুই দশকের ইতিহাসে স্পষ্ট।
বিষয়টি সম্পর্কে সচেতন আর্তেতা মে মাসে দলে ‘অভ্যন্তরীণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাড়ানোর’ কথা বলেছিলেন। গুইমারেস সেই গতিশীলতা আর্সেনাল স্কোয়াডে বয়ে আনবেন। মিডফিল্ডের মূল কান্ডারি ডেকলান রাইস গত মৌসুমে ক্লাব ও দেশের হয়ে ৬৯টি ম্যাচ খেলেছিলেন, যার ফলে তাকে ক্লান্ত দেখাচ্ছিল। এছাড়া জুবিমেন্ডিও গত মৌসুমে ৬৫টি ম্যাচ খেলে কিছুটা অবসাদগ্রস্ত ছিলেন।
ব্রুনো গুইমারেস এবং ডেকলান রাইস সতীর্থ হিসেবে খেলবেন।
কোথায় খেলবেন গুইমারেস?
গুইমারেসের বহুমুখী দক্ষতা আর্সেনালের জন্য অত্যন্ত জরুরি। আর্তেতা যদি রাইস এবং জুবিমেন্ডিকে রোটেশনে খেলানোর পরিকল্পনা করেন, তবে গুইমারেস গভীর মিডফিল্ডে ‘নম্বর ৬’ হিসেবে খেলতে পারবেন, যেখানে রাইস কিছুটা উপরে উঠবেন। আবার রাইস বিশ্রামে থাকলে গুইমারেস ‘নম্বর ৮’ পজিশনেও খেলার সুযোগ পাবেন।
আর্সেনাল ভক্তরা গুইমারেস ও রাইসের জুটি দেখার অপেক্ষায় থাকবেন, যেখানে তাদের সাথে মার্টিন ওডেগার্ড বা এবারচি ইজে ‘নম্বর ১০’ হিসেবে থাকবেন। কাগজে-কলমে রাইস ও গুইমারেসের শক্তি প্রায় একই—বল পুনরুদ্ধার করা এবং মিডফিল্ডে খেলা এগিয়ে নেওয়া। তবে রাইস যেখানে শারীরিক শক্তির প্রতীক, সেখানে গুইমারেস তার তীক্ষ্ণতা দিয়ে ভারসাম্য বজায় রাখবেন।
নিউক্যাসলের ব্রুনো গুইমারেস আর্সেনালে যোগ দেওয়ার পথে রয়েছেন।
ট্রান্সফার বাজারে আর্সেনালের পরবর্তী পরিকল্পনা কী?
মিকেল আর্তেতা ট্রান্সফার উইন্ডোতে দলকে ‘উচ্চাভিলাষী’ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। গুইমারেসকে সই করানো সেই লক্ষ্য পূরণ করেছে।
৭৫ মিলিয়ন পাউন্ডের খরচটি বড় মনে হলেও, গানাররা নিউক্যাসল থেকে তাকে আনতে পেরেছে ভালো দামেই। ম্যানচেস্টার সিটি এলিয়ট অ্যান্ডারসনের জন্য ১১৬ মিলিয়ন পাউন্ড এবং টটেনহ্যাম স্যান্ড্রো টোনালিকে সই করাতে ১০০ মিলিয়ন পাউন্ড ব্যয় করেছে, যা তুলনা করলে গুইমারেসের চুক্তিটি সাশ্রয়ী।
চেলসির কাছে মরগান রজার্সকে সই করানোর লড়াইয়ে হেরে যাওয়ার পর, আর্সেনাল এখন এমন একজন আক্রমণভাগের খেলোয়াড় খুঁজছে যিনি দ্রুত প্রথম দলে উন্নতি ঘটাতে পারবেন। এছাড়া উইলিয়াম সালিবার চোঁটের কারণে ব্যাকআপ হিসেবে একজন ডিফেন্ডারকেও প্রয়োজন তাদের। রিয়াল মাদ্রিদ তারকা ভিনিসিয়াস জুনিয়রকে নিয়ে আর্সেনালের বড় পরিকল্পনা থাকলেও তা এখনো অনিশ্চিত।
