আর্জেন্টিনা-স্পেন ফাইনাল ম্যাচে রেফারি হিসেবে থাকছেন স্লাভকো ভিনচিচ
চলতি বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা এবং স্পেনের মধ্যকার গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে রেফারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্লোভেনিয়ার স্লাভকো ভিনচিচ। গতকাল ফিফা আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা দেয়। একইসঙ্গে ফিফা একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে, যেখানে এই দায়িত্ব পাওয়ার পর রেফারির আবেগপ্রবণ প্রতিক্রিয়ার চিত্র উঠে এসেছে।
ফিফা এই ম্যাচের জন্য একজন অভিজ্ঞ কর্মকর্তাকেই বেছে নিয়েছে। স্লোভেনিয়ার এই রেফারি ২০১০ সাল থেকে ফিফার তালিকাভুক্ত এবং বড় মঞ্চের চাপের সঙ্গে তিনি বেশ পরিচিত।
২০২৪ সালের রিয়াল মাদ্রিদ ও বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের মধ্যকার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালে তিনি রেফারি ছিলেন। এছাড়া ইউরোপের শীর্ষ এই প্রতিযোগিতার গত মৌসুমে বায়ার্ন মিউনিখ ও রিয়াল মাদ্রিদের মধ্যকার কোয়ার্টার ফাইনালের দ্বিতীয় লেগেও তিনি দায়িত্ব পালন করেন। সেই ম্যাচে মাত্র আট মিনিটের ব্যবধানে এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গাকে সময় নষ্টের দায়ে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখিয়ে মাঠ থেকে বের করে দিয়ে তিনি সবার নজর কাড়েন। তার এই সিদ্ধান্ত স্পেনে বেশ বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল।
এই বিশ্বকাপে তিনি ইতিমধ্যে তিনটি ম্যাচ পরিচালনা করেছেন এবং তার সিদ্ধান্ত নিয়ে কোনো বিতর্ক তৈরি হয়নি। তবে ফাইনাল ম্যাচের আগে তার পেশাদার পারফরম্যান্সের পাশাপাশি অন্য একটি ঘটনাও সামনে এসেছে।
২০২০ সালের মে মাসে বসনিয়ার পুলিশ মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান এবং দেহ ব্যবসার অভিযোগে একটি অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান চালায়। ‘লেকিপ’-সহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার একটি কেবিনে অভিযান চালিয়ে তাকে ৩৫ জন ব্যক্তির সাথে আটক করা হয়। সেই অভিযানে কোকেন, অস্ত্র এবং বিপুল পরিমাণ অর্থ উদ্ধার করা হয়েছিল।
পুলিশি হেফাজতে থাকা অবস্থায় ভিনচিচকে সাক্ষী হিসেবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং শেষ পর্যন্ত তাকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। তিনি তদন্তকারীদের কাছে বিশ্বাসযোগ্যভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হন যে, অপরাধী চক্রের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না এবং তিনি কেবল একটি আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে সেখানে গিয়েছিলেন। তদন্তকারীরা তার সঙ্গে ওই অপরাধী সংগঠনের কোনো যোগসূত্র খুঁজে পাননি, ফলে কোনো অভিযোগ ছাড়াই তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
স্লোভেনিয়ার ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন জনসমক্ষে তার এই ব্যাখ্যার প্রতি সমর্থন জানায়। তারা জোর দিয়ে বলেছিল যে, ভিনচিচের সেখানে উপস্থিত থাকা কেবলই একটি দুর্ভাগ্যজনক কাকতালীয় ঘটনা ছিল; তিনি ভুল সময়ে ভুল জায়গায় উপস্থিত ছিলেন।
