৬৪ দলের ফুটবল বিশ্বকাপ আয়োজনের পরিকল্পনা খতিয়ে দেখবে ফিফা
২০২৬ সালের বিশ্বকাপের পর ৬৪ দলের ফুটবল বিশ্বকাপ আয়োজনের বিষয়টি বিস্তারিতভাবে খতিয়ে দেখা হবে। ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো জানিয়েছেন, ফুটবলকে পুরো বিশ্বের জন্য উন্মুক্ত করতে তারা এই পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী।
গত বছর এই টুর্নামেন্ট বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে ৪৮ দলের বিশ্বকাপ সফল হওয়ায় এখন ৬৪ দলের বিশ্বকাপ কীভাবে আয়োজন করা সম্ভব, তা নিয়ে আলোচনা করছেন ইনফান্তিনো। সুইজারল্যান্ডের সম্প্রচার মাধ্যম ব্লু স্পোর্টকে ইনফান্তিনো বলেন, বিশ্বকাপের পর সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলোতে এই বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে।
ইনফান্তিনো আরও বলেন, “বিশ্বকাপ কেবল ইউরোপ বা দক্ষিণ আমেরিকার জন্য নয়, এটি পুরো বিশ্বের জন্য আয়োজন করা প্রয়োজন। প্রতিটি দেশেরই বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন দেখার অধিকার রয়েছে। বিশ্বজুড়ে দলগুলোর খেলার মান ক্রমাগত উন্নত হচ্ছে। ছোট দেশগুলোকে সুযোগ না দিলে তাদের উন্নতির উৎসাহ কমে যাবে।”
চলতি ৪৮ দলের বিশ্বকাপকে তিনি অত্যন্ত সফল বলে অভিহিত করেন। তার মতে, আফ্রিকার ১০টি দেশের মধ্যে ৯টি দেশ নকআউট পর্বে ওঠাই এর প্রমাণ। এর আগে গত বিশ্বকাপে আফ্রিকা থেকে মাত্র পাঁচটি দল অংশ নিয়েছিল। তাই সব দেশের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে ফিফা কাউন্সিল বিশ্বকাপ ৩২ থেকে বাড়িয়ে ৪৮ দলে উন্নীত করার অনুমোদন দেয়। এরপর ২০২৫ সালের এপ্রিলে দক্ষিণ আমেরিকান ফুটবল সংস্থা কনমেবল ২০৩০ বিশ্বকাপ ৬৪ দলে করার প্রস্তাব দেয়, যদিও এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। ২০৩০ সালের বিশ্বকাপ স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কোতে অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া প্রতিযোগিতার শতবর্ষ উদ্যাপনে আর্জেন্টিনা, উরুগুয়ে ও প্যারাগুয়েতে উদ্বোধনী ম্যাচগুলো আয়োজন করা হবে।
তবে এই প্রস্তাব নিয়ে মতপার্থক্য রয়েছে। উয়েফা প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার সেফেরিন একে ‘বাজে ধারণা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (এএফসি) প্রেসিডেন্ট শেখ সালমান বিন ইব্রাহিম আল খলিফাও এর বিরোধিতা করে বলেছেন, এর ফলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে। কনকাকাফ প্রেসিডেন্ট ভিক্টর মন্ট্যাগ্লিয়ানিও মনে করেন, এটি ফুটবল কাঠামোর জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
তবে হোয়াইট হাউসের বিশ্বকাপ টাস্ক ফোর্সের নির্বাহী পরিচালক অ্যান্ড্রু জুলিয়ানি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ২০৩৮ বিশ্বকাপ আয়োজনের বিড করতে আগ্রহী এবং ৬৪ দলের টুর্নামেন্ট আয়োজনে তারা সক্ষম। ফিফা জানিয়েছে, তারা অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাবে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য আরও সময়ের প্রয়োজন।
আয়োজকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ
২০১৬ সালে ইনফান্তিনো নির্বাচিত হওয়ার পর তার লক্ষ্য ছিল বিশ্বকাপ ৩২ থেকে ৪০ দলে উন্নীত করা। এক বছরের কম সময়ে তা ৪৮ দলে উন্নীত হয়। এরপর থেকেই বিশ্বকাপ আরও বড় করার জল্পনা বাড়তে থাকে। তবে বড় টুর্নামেন্ট আয়োজনের চ্যালেঞ্জও অনেক। বর্তমানে তিনটি দেশে এবং ২০৩০ সালে ছয়টি দেশে ম্যাচ আয়োজন করা হবে। ২০৩৪ সালে সৌদি আরব কীভাবে ৬৪ দলের টুর্নামেন্ট আয়োজন করবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েই গেছে।
তবে ইনফান্তিনোর কাছে এটি একটি বড় সুযোগ। এর মাধ্যমে অনেক বেশি দেশ বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে। এছাড়া টুর্নামেন্টের পরিধি বাড়লে সদস্য দেশগুলোর জন্য প্রাপ্ত রাজস্বের পরিমাণও বৃদ্ধি পাবে।
