বিশ্বকাপের ম্যাচে ফোলারিন বালোগুনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার নিয়ে বিতর্ক
বিশ্বকাপ ফুটবলে যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগুনের লাল কার্ডের কারণে পাওয়া নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিতর্কিত সিদ্ধান্তটি এককভাবে নিয়েছেন ফিফার ডিসিপ্লিনারি কমিটির চেয়ার মোহাম্মদ আল-কামালি। দ্য টাইমস অব লন্ডনের রবিবারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কমিটির অন্য ১৭ জন সদস্যের কারো মতামত ছাড়াই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
The controversial decision to waive U.S. striker Folarin Balogun’s red-card suspension in the World Cup was made solely by FIFA disciplinary chair Mohammad al-Kamali and without input from any of the 17 other members of his committee, The Times of London reported Sunday.
Balogun, USA’s leading scorer, was issued a red card for a foul in his team’s Round of 32 win over Bosnia and Herzegovina. Per FIFA rules, a red card comes with an automatic one-game suspension for the following game that Balogun was scheduled to serve during USA’s Round of 16 game against Belgium.
যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ গোলদাতা বালোগুন বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে রাউন্ড অব ৩২-এর ম্যাচে ফাউল করে লাল কার্ড দেখেন। ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, লাল কার্ডের কারণে খেলোয়াড় স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরবর্তী এক ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ হন। সেই নিয়ম অনুযায়ী, বেলজিয়ামের বিপক্ষে রাউন্ড অব ১৬-এর ম্যাচে বালোগুনের খেলার কথা ছিল না।
কিন্তু দশকের পর দশক ধরে চলে আসা রীতি ভেঙে বালোগুনকে খেলার অনুমতি দেওয়া হয়। ফিফা নিষেধাজ্ঞাটি পুরোপুরি বাতিল না করলেও তা “এক বছরের প্রবেশনারি পিরিয়ডের” জন্য স্থগিত করে এবং বালোগুনকে ৪০,০০০ ডলার জরিমানা করে।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে এটি প্রথম ঘটনা যেখানে লাল কার্ডের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও কোনো খেলোয়াড়কে মাঠে নামার অনুমতি দেওয়া হলো। যুক্তরাষ্ট্র-বেলজিয়াম ম্যাচের আগের দিন ফিফা একটি সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে তাদের ডিসিপ্লিনারি কোডের ২৭ নম্বর অনুচ্ছেদের উল্লেখ করে এই সিদ্ধান্ত জানায়। পরবর্তীতে তারা একটি দীর্ঘ বিবৃতি প্রকাশ করে সিদ্ধান্তটির পক্ষে সাফাই গায়, তবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়া বা এর পেছনের সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি।
ট্রাম্পের ফোন এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার
যুক্তরাষ্ট্র-বেলজিয়াম ম্যাচের দিন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিশ্চিত করেন যে, তিনি লাল কার্ডের বিষয়টি পুনর্বিবেচনার জন্য ফিফাকে ফোন করেছিলেন। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোও ট্রাম্পের ফোন পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন, তবে দাবি করেন যে ট্রাম্পের প্রভাব ছাড়াই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প ফিফাকে ধন্যবাদ জানান।
এই সিদ্ধান্ত ফুটবল বিশ্বে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। ইউরোপের ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা এক বিবৃতিতে এই সিদ্ধান্তকে “নজিরবিহীন, বোধগম্য নয় এবং অন্যায্য” বলে নিন্দা জানিয়েছে। বেলজিয়াম এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করলেও ফিফা তা প্রত্যাখ্যান করে। শেষ পর্যন্ত মাঠে বালোগুনকে নিয়েই যুক্তরাষ্ট্র বেলজিয়ামের কাছে ৪-১ গোলে পরাজিত হয়।
দ্য টাইমসের তথ্যমতে, এর আগে ফিফার বিভিন্ন ডিসিপ্লিনারি মামলার সিদ্ধান্ত সাধারণত কমিটির একজন সদস্য, মূলত কলম্বিয়ার ডেপুটি চেয়ারম্যান জর্জ প্যালাসিও নিতেন। কিন্তু ১০০টিরও বেশি আগের মামলার নথি বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাসিন্দা কামালি এর আগে কখনো কোনো ডিসিপ্লিনারি কমিটির একক মধ্যস্থতাকারী ছিলেন না। গুরুত্বপূর্ণ ডিসিপ্লিনারি মামলার ক্ষেত্রে সাধারণত ডিসিপ্লিনারি কমিটির তিনজন সদস্য মিলে সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন।
কামালি এককভাবে এই সিদ্ধান্ত কেন নিয়েছেন, সে বিষয়ে মন্তব্যের জন্য টাইমসের পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হলেও ফিফা কোনো সাড়া দেয়নি। শনিবার বিবিসির পক্ষ থেকেও এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে কামালি উত্তর দিতে অস্বীকৃতি জানান।
