বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগে আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছেন নিকো ও’রাইলি
২০২৫-২৬ মৌসুম নিঃসন্দেহে নিকো ও’রাইলির ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা সময়। ম্যানচেস্টার সিটির এই তরুণ তুর্কি ২০২৪-২৫ মৌসুমের শেষভাগে নিজের যে দারুণ ফর্ম দেখিয়েছিলেন, তা অব্যাহত রেখে গত মৌসুমে দলের অন্যতম প্রধান খেলোয়াড় হয়ে উঠেছেন। আর এই ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের সুবাদেই তিনি জায়গা করে নিয়েছেন ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ স্কোয়াডে। ইংল্যান্ড এখন বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে পৌঁছেছে এবং এই যাত্রায় ও’রাইলি রেখেছেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। হ্যারি কেন বা জুড বেলিংহ্যামের মতো তারকারা শিরোনামে জায়গা করে নিলেও, টমাস টুখেলের দলের হয়ে লেফট-ব্যাক পজিশনে নিকো ও’রাইলির অবদান অনস্বীকার্য।
বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের লেফট-ব্যাক হিসেবে নিয়মিত পারফর্ম করছেন নিকো ও’রাইলি
পুরো বিশ্বকাপজুড়ে ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগকে বেশ কিছু চোটের সমস্যার মোকাবিলা করতে হয়েছে। টুর্নামেন্টের ঠিক আগে চোটে পড়ে ছিটকে যান নিউক্যাসল ইউনাইটেডের ফুল-ব্যাক টিনো লিভরামেন্টো, যার জায়গায় দলে আসেন ট্রেভর চালোবাহ। এছাড়া রিস জেমস ও জন স্টোনস চোটের কবলে পড়েছেন এবং মেক্সিকোর বিপক্ষে রাউন্ড অফ সিক্সটিনের ৩-২ গোলের নাটকীয় জয়ের ম্যাচে লাল কার্ড দেখে দুই ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা পেয়েছেন জ্যারেল কোয়ানসাহ। টমাস টুখেলকে রাইট-ব্যাক পজিশন নিয়ে অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হলেও, লেফট-ব্যাকে নিকো ও’রাইলি নীরবে দারুণ এক টুর্নামেন্ট কাটাচ্ছেন।
নিকো ও’রাইলি তার দেশের হয়ে লেফট-ব্যাক পজিশনে বেশ স্থির। ইংল্যান্ডের ছয়টি ম্যাচের মধ্যে পাঁচটিতেই তিনি শুরুর একাদশে ছিলেন এবং তার পারফরম্যান্স টমাস টুখেলের প্রত্যাশা অনুযায়ীই হয়েছে। ম্যানচেস্টার সিটির এই তরুণ খেলোয়াড় রক্ষণভাগে বেশ শক্তপোক্ত, যেখানে তার শারীরিক সক্ষমতা দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। যদিও এখনো গোল পাননি, তবুও আক্রমণে উঠে আসার ক্ষেত্রে তিনি সাবলীল। গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে জ্বলে ওঠার অভ্যাস থাকায় বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ও’রাইলি বড় কোনো ভূমিকা রাখলে তা অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। এখন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে সেই বড় চ্যালেঞ্জের জন্য নিজেকে পুরোপুরি প্রস্তুত করছেন ও’রাইলি।
সেমিফাইনালে লিওনেল মেসি ও আর্জেন্টিনার মুখোমুখি ইংল্যান্ড, বড় পরীক্ষার মুখে ও’রাইলি
বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের পরবর্তী প্রতিপক্ষ চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনা। ১৯৮৬ ও ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপের মতো আর্জেন্টিনার কাছে হেরে বিদায়ের তিক্ত স্মৃতি ভুলে সেমিফাইনাল জয়ের লক্ষ্য টমাস টুখেলের শিষ্যদের। ইংল্যান্ডের পথে বড় বাধা লিওনেল মেসির নেতৃত্বাধীন শক্তপোক্ত আর্জেন্টিনা। মেসি এই টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত আটটি গোল করেছেন। বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠতে হলে মেসিকে থামানোর কৌশল খুঁজতেই হবে ইংল্যান্ডকে, আর এই প্রক্রিয়ায় নিকো ও’রাইলির ভূমিকা হবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আর্জেন্টিনার হয়ে লিওনেল মেসি সাধারণত ফ্রি রোলে খেলেন এবং উপযুক্ত মুহূর্তের অপেক্ষায় থাকেন। বেশিরভাগ সময় মেসি ডান দিক থেকে ভেতরে ঢুকে আক্রমণের ধার বাড়ান। যদি আর্জেন্টিনার এই কিংবদন্তি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এমনটা করেন, তবে সতীর্থদের সহায়তায় তাকে রুখে দেওয়ার দায়িত্ব অনেকটাই থাকবে নিকো ও’রাইলির ওপর। ম্যানচেস্টার সিটির এই তরুণ তারকা যে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে বড় চ্যালেঞ্জের জন্য প্রস্তুত, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। ও’রাইলির বর্তমান মেজাজ এবং শারীরিক সক্ষমতা বিবেচনায় নিলে, তিনি এই দায়িত্ব পালনে পুরোপুরি সক্ষম।
ম্যানচেস্টার সিটির ফর্মকে ও’রাইলি এই গ্রীষ্মের বিশ্বকাপে দারুণভাবে বজায় রেখেছেন। টুর্নামেন্টে তিনি নীরবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছেন। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে তার সামনে এক কঠিন চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তবে ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে অতীতে এমন কঠিন কাজগুলো যেভাবে সামলেছেন ও’রাইলি, তাতে ইংল্যান্ডের হয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচেও তিনি বড় কোনো ভূমিকা রাখলে তা অবাক হওয়ার মতো কিছু হবে না।
