ফিফা বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়া রেফারি রব ডিপারিংকের মৃত্যু
ডাচ ফুটবল ফেডারেশন (KNVB) এক বিবৃতিতে রেফারি রব ডিপারিংকের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। ফিফার ২০২৬ বিশ্বকাপ পরিচালনার তালিকা থেকে বাদ পড়ার পর তিনি মারা গেলেন।
ফিফা জানায়, ৩৮ বছর বয়সী ডিপারিংককে আসন্ন বিশ্বকাপের জন্য ভিএআর (VAR) হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছিল। কিন্তু মে মাসে তাকে বিশ্বকাপের অফিসিয়াল তালিকা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
‘দ্য অ্যাথলেটিক’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত এপ্রিলে লন্ডনে এক কিশোরকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে মেট্রোপলিটন পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছিল। ৯ এপ্রিল দক্ষিণ লন্ডনে ক্রিস্টাল প্যালেস ও ফিওরেন্টিনার মধ্যে অনুষ্ঠিত ইউরোপা কনফারেন্স লিগের একটি ম্যাচের পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তবে এই মামলার কোনো অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। মেট্রোপলিটন পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে, ‘প্রয়োজনীয় প্রমাণের অভাবের’ কারণে এই মামলায় আর কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে না।
সোমবার কেএনভিবি (KNVB) এক বিবৃতিতে জানায়, ‘রব ডিপারিংকের মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত এবং স্তম্ভিত।’
সংস্থাটি আরও জানায়, ‘রবের মৃত্যুতে আমরা একজন অত্যন্ত মূল্যবান রেফারিকে হারালাম। তবে তার চেয়েও বড় কথা, আমরা একজন সদয় ও নিবেদিতপ্রাণ সহকর্মীকে হারিয়েছি। তার পরিবার, বন্ধুবান্ধব এবং যারা তাকে ভালোবাসতেন, তাদের প্রতি আমাদের সমবেদনা রইল। এই কঠিন সময়ে আমরা তাদের ধৈর্য ও শক্তি কামনা করছি।’
এর আগে ডাচ পত্রিকা ‘ডি তেগ্রাফ’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ডিপারিংক দাবি করেছিলেন যে তাকে ‘ভুলভাবে অভিযুক্ত’ করা হয়েছে। তিনি বলেছিলেন, ‘শুরু থেকেই আমি পুলিশ তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করেছি এবং ফিফা, উয়েফা ও কেএনভিবি-কেও বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়েছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি কেএনভিবি-র পক্ষ থেকে যে সমর্থন পেয়েছি এবং তারা যেভাবে বিষয়টি সামাল দিয়েছে, তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। তবে এটা দুর্ভাগ্যজনক যে, ফিফা আমাকে আর বিশ্বকাপের জন্য নিয়োগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই আমি এতে হতাশ।’
মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র মে মাসে জানিয়েছিলেন, ‘৯ এপ্রিল ক্রয়েডনের ওয়েলেসলি রোডের একটি ঠিকানায় এক কিশোরকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ সেখানে যায়। এরপর ৩০ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে যৌন নিপীড়নের সন্দেহে গ্রেপ্তার করা হয়।’
পুলিশের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, ‘কর্মকর্তারা পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত সম্পন্ন করেছেন এবং সিসিটিভি ফুটেজসহ সমস্ত ডিজিটাল প্রমাণ পর্যালোচনা করেছেন। তদন্ত শেষে তারা সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে, অভিযোগের সপক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাই এ বিষয়ে আর কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে না।’
