ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে তদন্তে সহায়তা করা রুই পিন্তো থাকছেন সাক্ষী সুরক্ষা কর্মসূচিতে
ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে প্রিমিয়ার লিগের তদন্তে সাহায্যকারী নথি ফাঁস করা পর্তুগিজ কম্পিউটার হ্যাকার রুই পিন্তোকে আপাতত সাক্ষী সুরক্ষা কর্মসূচিতেই রাখা হচ্ছে। পর্তুগিজ কর্তৃপক্ষ তার সুরক্ষা কর্মসূচি বাতিলের সিদ্ধান্তটি স্থগিত করেছে।
‘ফুটবল লিকস’-এর প্রতিষ্ঠাতা রুই পিন্তোর শনিবার এই সুরক্ষা কর্মসূচি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার কথা ছিল। তবে এই সিদ্ধান্ত তার জীবনকে হুমকির মুখে ফেলবে বলে তিনি আগেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন।
৩৭ বছর বয়সী পিন্তো ফুটবলের অনেক গোপন নথি ফাঁস করেছিলেন, যার মধ্যে ম্যানচেস্টার সিটির বিভিন্ন ইমেইল ও আর্থিক নথিপত্রও ছিল। ২০১৮ সালে তিনি এসব নথি জার্মান ম্যাগাজিন ‘ডার স্পিগেল’-এর কাছে হস্তান্তর করেন। পরবর্তীতে ম্যাগাজিনটি এই নথিগুলো ব্যবহার করে ম্যানচেস্টার সিটির আর্থিক অনিয়ম ও ফিন্যান্সিয়াল ফেয়ার প্লে বিধি ভঙ্গের অভিযোগ নিয়ে তদন্ত করে।
এর প্রেক্ষিতে, ২০০৯-১০ থেকে ২০১৭-১৮ মৌসুম পর্যন্ত প্রিমিয়ার লিগের আর্থিক নীতিমালা ভঙ্গের সব অভিযোগে ম্যানচেস্টার সিটিকে সম্প্রতি দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। ক্লাবটি এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করেছে।
২০২০ সালে পর্তুগিজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সহযোগিতা ও ‘ফুটবল লিকস’ অভিযানের মাধ্যমে পাওয়া তথ্য প্রদানের চুক্তির ভিত্তিতে পিন্তো দেশটির সাক্ষী সুরক্ষা কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত হন।
শুক্রবার এক বিবৃতিতে পর্তুগালের বিচার মন্ত্রণালয় জানায়, পিন্তোকে সুরক্ষা কর্মসূচি থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তটি আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। বিশেষ নিরাপত্তা কর্মসূচি কমিশন পিন্তোকে তার সুরক্ষা বাতিলের কারণ সঠিকভাবে অবহিত করেনি এবং সিদ্ধান্তটিকে চ্যালেঞ্জ করার সুযোগও দেয়নি।
এখন পিন্তোকে ১০ দিন সময় দেওয়া হবে যাতে তিনি নিরাপত্তা কমিশনের তৈরি করা ঝুঁকি মূল্যায়ন প্রতিবেদনটি পর্যালোচনা করতে পারেন। সেই প্রতিবেদনে অবশ্য পিন্তোর নিরাপত্তার ঝুঁকি কম বলে উল্লেখ করা হয়েছিল।
পিন্তো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) পর্তুগালের বিচারমন্ত্রী রিতা আলারকাও জুদিসকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তিনি মন্তব্য করেন যে, কমিশনের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত আইন লঙ্ঘন করেছে এবং এটি ক্ষমতার চরম অপব্যবহার।
নিজে একজন হুইসেলব্লোয়ার বা তথ্য ফাঁসকারী হিসেবে পরিচিতি পেলেও, পর্তুগালে অবৈধভাবে তথ্য সংগ্রহ এবং চাঁদাবাজির চেষ্টার অভিযোগে পিন্তো দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন। তাকে চার বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হলেও তা স্থগিত রাখা হয়েছে। ২০২০ সালে নিজের প্রথম বিচারের সময় তিনি বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরে আদালতে হাজির হয়েছিলেন এবং সে সময় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল।
চলতি বছরের শুরুর দিকে বেনফিকাসহ পর্তুগালের বিভিন্ন ক্রীড়া সংস্থার ইমেইল অ্যাকাউন্টে অবৈধভাবে প্রবেশ করার ২৪১টি অভিযোগ থেকে তিনি খালাস পেয়েছেন।
