৪৪ বছর বয়সেও দুর্দান্ত ফর্মে নেনে, বোতাফোগোর জয়ে বড় ভূমিকা
আগামী রবিবার (১৯) ৪৪ বছর পূর্ণ করতে চলেছেন নেনে। একই দিনে ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবলের পর্দা নামবে। তবে এই বয়সেও যে তিনি মাঠে কতটা কার্যকর, তা আবারও প্রমাণ করলেন এই অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার।
যুক্তরাষ্ট্রে ‘কাজে টিভি’ (CazéTV)-এর হয়ে রিপোর্টিংয়ের দায়িত্ব পালন শেষে রবিবার (১২) মাঠে ফেরেন তিনি। বোতাফোগো দা পারাইবা ও কনফিওনসার মধ্যকার ম্যাচে তিনি নিজের দক্ষতা আবারও ফুটিয়ে তোলেন। এই ম্যাচে দলের ২-০ ব্যবধানের জয়ে তিনি প্রথম গোলটিতে ভূমিকা রাখার পাশাপাশি দ্বিতীয় গোলটির পথ তৈরি করে দেন।
ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধের ৩২ মিনিটেও তিনি দারুণ ক্ষিপ্রতায় বিপক্ষ খেলোয়াড়কে কাটিয়ে কায়োনকে গোলের সুযোগ তৈরি করে দেন। বর্তমানে সেরি সি-তে ষষ্ঠ স্থানে থাকা বোতাফোগো দ্বিতীয় পর্বে ওঠার লড়াইয়ে বেশ ভালো অবস্থানে রয়েছে।
চলতি মৌসুমে সেরি সি-তে এখন পর্যন্ত ছয়টি গোল করেছেন নেনে। গোল করার পাশাপাশি চারটি অ্যাসিস্ট করে তিনি গোল তৈরিতেও সবার চেয়ে এগিয়ে আছেন। এছাড়া এ বছর পারাইবা স্টেট চ্যাম্পিয়নশিপ জয়েও দলের বড় ভরসা ছিলেন তিনি।
ব্রাজিল ও ফ্রান্সের অনুশীলনে নজর কেড়েছেন নেনে
কনফিওনসার বিপক্ষে ম্যাচসেরার পুরস্কার পাওয়ার মাত্র চার দিন আগে তাকে যুক্তরাষ্ট্রে ফ্রান্স দলের অনুশীলনে দেখা যায়। সেখানে সাবেক পিএসজি সতীর্থ রাবিও এবং ক্লাবটির যুব দল থেকে উঠে আসা মাইগনানের সঙ্গে দেখা করেন নেনে।
এমবাপ্পে এবং দিদিয়ের দেশমের সঙ্গেও আলাপচারিতায় মেতে ওঠেন তিনি। নেনে এখনও ফুটবল খেলছেন—এটি জেনে তারা বেশ অবাক হন। ওলিসে তাকে অভিবাদন জানানোর জন্য অপেক্ষায় ছিলেন।
২০১০ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত পিএসজিতে সাফল্যের সঙ্গে খেলেন নেনে। ২০১১-১২ মৌসুমে লিগ ওয়ানে সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে তিনি ছিলেন সর্বশেষ ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার। ২০১২-১৩ মৌসুমে শিরোপাজয়ী স্কোয়াডেরও অংশ ছিলেন তিনি। এর আগে ব্রাজিলের জাতীয় দলের অনুশীলনের সময়ও নেনের উপস্থিতি সবার নজর কেড়েছিল। এমনকি আনচেলোত্তি তাকে অনুশীলনে যোগ দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানান।
শুধুমাত্র সাসপেনশনের কারণে ম্যাচ মিস করেছেন নেনে
বোতাফোগোর সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার আগেই ‘কাজে টিভি’র হয়ে বিশ্বকাপ কভারেজের বিষয়টি চূড়ান্ত করেছিলেন নেনে। শুরুতে তিনি স্টুডিওতে ধারাভাষ্যকার হিসেবে কাজ শুরু করেন। তবে তিনি তার ক্লাবের হয়ে খেলা চালিয়ে গেছেন।
১৩ জুন মাইক্রোফোনের সামনে প্রথমবারের মতো হাজির হওয়ার দুই দিন পরেই তিনি ইরেচিম, রিও গ্রান্ডে দো সুলে ইপিরঙ্গার বিপক্ষে মাঠে নামেন। এরপর ভোল্টা রেডোন্ডা এবং ব্রুস্কের বিপক্ষেও তিনি খেলেন। তবে হলুদ কার্ডের নিষেধাজ্ঞার কারণে আনাপোলিসের বিপক্ষে ম্যাচে খেলতে পারেননি তিনি।
নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে কনফিওনসার বিপক্ষে ফিরেই তিনি আবারো নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিলেন। এখন পর্যন্ত বোতাফোগোর হয়ে সেরি সি-তে খেলা ১৪টি ম্যাচের মধ্যে ১১টিতেই মাঠে নেমেছেন এই ফুটবলার।
