ম্যাচের আগে আর স্নায়ুর চাপে ভোগেন না ইন্টার মিলানের ডিফেন্ডার জেড স্পেন্স
ইন্টার মিলানের ডিফেন্ডার জেড স্পেন্স জানিয়েছেন, ম্যাচের আগে তিনি এখন আর স্নায়ুর চাপে (নার্ভাস) ভোগেন না। খেলার প্রস্তুতিতে সঙ্গীত বড় ভূমিকা পালন করে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
গ্রীষ্মকালীন দলবদলের সময় ৩৫ মিলিয়ন ইউরোর চুক্তিতে টটেনহ্যাম থেকে ইন্টার মিলানে যোগ দেন স্পেন্স। তবে ইতালিয়ান ক্লাব নেরাজ্জুরিদের হয়ে এখনো অভিষেক হয়নি তার।
ইংল্যান্ড দলের এই আন্তর্জাতিক ফুটবলার ম্যাচের জন্য পুরোপুরি ফিট হয়েছেন এবং এই মৌসুমে প্রথমবারের মতো আজকের পার্মার বিপক্ষে ম্যাচের জন্য স্কোয়াডে থাকছেন।
ইন্টার মিলানের সাথে নিজের প্রথম অনুশীলনী সেশনে অংশ নিয়েছেন ইংল্যান্ডের এই ফুটবলার।
জি কিউ ম্যাগাজিনের সাথে আলাপকালে, ইংল্যান্ডের এই ডিফেন্ডার তার ম্যাচপূর্ব রুটিন এবং ইংলিশ ফুটবলের অন্যতম শান্ত খেলোয়াড় হিসেবে নিজের পরিচিতি নিয়ে কথা বলেছেন।
তিনি জানান, “আমি এখন আর আসলে স্নায়ুর চাপে ভুগি না। সম্ভবত ১৮ বছর বয়সের দিকে আমি নার্ভাস হওয়া বন্ধ করেছি।”
“বিশ্বকাপের সময় প্রথম ম্যাচের আগে আমি আবারও কিছুটা স্নায়ুর চাপ অনুভব করেছিলাম।”
ইন্টার মিলানের এই ডিফেন্ডার বলেন, “আমি এটাকে স্নায়ুর চাপ বলতে চাই না, আমি এটাকে শক্তি হিসেবে দেখি। আমি নিজের বলয়ে থাকি, কারণ অন্য মানুষ যখন নার্ভাস থাকে, তা অন্যের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ে।”
মাঠের বাইরের প্রস্তুতির খুঁটিনাটি তুলে ধরে টটেনহ্যামের এই সাবেক খেলোয়াড় বলেন, “প্রস্তুতির জন্য সঙ্গীত আমার জীবনের একটি বড় অংশ।”

তিনি জানান, “দিনের অনুভূতির ওপর নির্ভর করে আমি কী শুনব। তবে সাধারণত খেলার পথে বাসে আমি গান শুনি। মাঠে নামার সময় বা ড্রেসিংরুমে ঢোকার সময় বিশেষ কিছু গান প্লে করি। এরপর থেকে আমি সম্পূর্ণ ফোকাসড থাকি। আমি তারযুক্ত হেডফোন ব্যবহার করি এবং লিল ডার্কের মতো আমেরিকান শিল্পীদের গান শুনি।”
তিনি আরও যোগ করেন, “যদি কোনো বিশেষ অনুভূতি হয়, তবে ম্যাচের আগে আমি আমার হোটেলের রুমে প্রার্থনা করি এবং ড্রেসিংরুমে আরও দুইবার প্রার্থনা করি। আমি আমার সাধ্যমতো প্রার্থনা করার চেষ্টা করি। আমি বিশ্বাস করি এটি আমাকে দিকনির্দেশনা, শক্তি এবং ক্ষমতা দেয়। সব ঈশ্বরের ওপর ছেড়ে দিয়েছি, চাপটা আমার ওপর নয়।”
শীর্ষ পর্যায়ের ফুটবলারদের জন্য ভালো ঘুম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

স্পেন্স বলেন, “আমি ম্যাচের আগের দিন রাত ১২টার মধ্যে ঘুমানোর চেষ্টা করি। আমি যোগব্যায়াম এবং রেড লাইট থেরাপি ও অক্সিজেন ট্যাঙ্কের মতো রিকভারি পদ্ধতিগুলো শুরু করার পরিকল্পনা করছি।”
ফুটবলের বাইরে ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বলতে গিয়ে স্পেন্স নিজের পরিবারের কথা তুলে ধরেন।
“পরিবার আমার কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমার তিন বোন আছে। তারা আমার সবচেয়ে ভালো বন্ধু। আমরা সবকিছু একসাথে করি—ছুটিতে যাওয়া, খেতে যাওয়া,” যোগ করেন তিনি।

“আমাদের পারিবারিক বন্ধন বেশ দৃঢ়। প্রতিদিন আমরা একে অপরের সাথে কথা বলি। ইনস্টাগ্রাম মিম বা অন্য কোনো বিষয় নিয়ে আলাপ করি। অনলাইনে আমরা একসাথে প্লে-স্টেশনও খেলি। এমন কোনো দিন নেই যখন আমাদের কথা হয় না।”
ইন্টার মিলানে স্পেন্স আজ প্রথমবারের মতো খেলার জন্য উপলব্ধ থাকলেও, তার সতীর্থ জন স্টোনস এবং কার্টিস জোন্স চোটের কারণে দলের বাইরে আছেন।
