বেলজিয়ামকে হারিয়ে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে স্পেন
ক্যালিফোর্নিয়ার ইংলুউডে বেলজিয়ামের বদলি গোলরক্ষকের বড় ভুলকে কাজে লাগিয়ে স্পেনকে জয় এনে দিলেন মিকেল মেরিনো। শুক্রবার অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ৮৮ মিনিটের মাথায় গোল করে দলকে ২-১ ব্যবধানে জয়ী করেন তিনি। ইনজুরির কারণে মূল গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া মাঠ ছাড়লে তার পরিবর্তে মাঠে নামেন সেনে ল্যামেন্স। মাঠে নামার কিছুক্ষণের মধ্যেই সাধারণ একটি শট ঠিকমতো ধরতে ব্যর্থ হন ল্যামেন্স, যা থেকে সুযোগ পেয়ে গোল করেন মেরিনো। এই জয়ে সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে স্পেন।
গত দুই ম্যাচে মেরিনোর এটি দ্বিতীয় বড় গোল। এর আগে শেষ ষোলোর লড়াইয়ে পর্তুগালের বিপক্ষেও বদলি হিসেবে নেমে অতিরিক্ত সময়ে জয়সূচক গোলটি করেছিলেন তিনি। মেরিনোর এই বীরত্বে বিশ্বকাপের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত সেমিফাইনাল ম্যাচটির পথ প্রশস্ত হলো। আগামী মঙ্গলবার সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে দুই শক্তিশালী দল স্পেন ও ফ্রান্স।
টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই ফ্রান্স ও স্পেন ফেভারিট হিসেবে নিজেদের প্রমাণ করে আসছে। আক্রমণভাগে কিলিয়ান এমবাপ্পে ও উসমান দেম্বেলে সম্মিলিতভাবে ১৩টি গোল করেছেন। মাইকেল ওলিসের দক্ষ প্লে-মেকিং ও ভিশনের কারণে অনেক বিশ্লেষক ফ্রান্সকেই শিরোপার দাবিদার মনে করছেন। তবে স্পেনের দখল ধরে রাখার ফুটবল এবং দারুণ টেকনিক ফ্রান্সের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। টানা ৩৬ ম্যাচে অপরাজিত স্পেন প্রতিপক্ষের গোলের সুযোগ কমিয়ে দিতে ওস্তাদ। বেলজিয়ামের বিপক্ষে ম্যাচের আগে এবারের বিশ্বকাপে স্পেন একটি গোলও হজম করেনি।
স্পেন ও ফ্রান্সের প্রতিদ্বন্দ্বিতা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তীব্র হয়েছে। ২০২১ সালের উয়েফা নেশনস লিগের ফাইনালে ফ্রান্স ২-১ গোলে জিতলেও, তিন বছর পর ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালে স্পেন বদলা নেয়। এছাড়া গত বছর নেশনস লিগের সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে হারিয়েছিল স্পেন। এই বিশ্বকাপে ফ্রান্সের মান নিয়ে প্রশ্ন করা হলে লামাল সরাসরি তা নাকচ করে দিয়ে বলেন, ইউরোর পর থেকে ফ্রান্স স্পেনকে হারাতে পারেনি। তিনি আরও বলেন, ফ্রান্স দারুণ দল হলেও স্পেনের উপরে কেউ নেই।
এই লড়াইয়ের জন্য বেলজিয়ামের বাধা পার করতে হয়েছে স্পেনকে। অভিজ্ঞতার বিচারে পিছিয়ে থাকা বেলজিয়াম এবার গ্রুপ পর্বে শীর্ষস্থান অর্জন করেছিল এবং সেনেগাল ও যুক্তরাষ্ট্রকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে। তবে ম্যাচের আগে অধিনায়ক ইউরি টিলেম্যানস ইনজুরিতে পড়ায় বেলজিয়াম বড় ধাক্কা খায়। এছাড়া আগে থেকেই ইনজুরিতে ছিলেন আমাদাউ ওনানা।
ম্যাচের প্রথমার্ধের ৩০ মিনিটে স্পেনের হয়ে প্রথম গোলটি করেন ফাবিয়ান রুইজ। ডান দিক থেকে পেদ্রো পোরোর পাস থেকে দানি ওলমোর শট থিবো কোর্তোয়া ঠেকালেও ফিরতি বল জালে জড়ান রুইজ। স্প্যানিশ কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে পেদ্রিকে বসিয়ে রুইজকে একাদশে রেখে নিজের সিদ্ধান্তকে সঠিক প্রমাণ করেন। তবে ৪১ মিনিটে কেভিন ডি ব্রুইনের অসাধারণ ভিশন থেকে টিমোথি কাস্তানের ক্রসে চার্লস ডি কেটেলার হেডের মাধ্যমে সমতা ফেরায় বেলজিয়াম। এটিই ছিল ৬৪৯ মিনিটের মধ্যে স্পেনের জালে ঢোকা প্রথম গোল।
