ইনগলউডে চোটের ধাক্কা, বেলজিয়ামকে বিদায় করে সেমিফাইনালে স্পেন
ক্যালিফোর্নিয়ার ইনগলউডে অনুষ্ঠিত ফিফা বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে স্পেনের মুখোমুখি হয়েছিল বেলজিয়াম। ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধের শুরুর দিকেই বেলজিয়ামের গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া থাইয়ের চোটে পড়েন। গোল কিক নেওয়ার সময় তিনি এই অস্বস্তি অনুভব করেন।
শুরুতে খেলা চালিয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি থাকলেও, দীর্ঘ কিক নেওয়ার সময় কোর্তোয়ার ব্যথা বারবার ফিরে আসছিল। দলের কোচ রুডি গার্সিয়া ঝুঁকি না নিয়ে ৭১তম মিনিটে কোর্তোয়াকে মাঠ থেকে তুলে নেন। ১-১ সমতায় থাকা অবস্থায় কোর্তোয়ার পরিবর্তে মাঠে নামেন সেন ল্যামেনস। মাঠ ছাড়ার সময় হতাশ কোর্তোয়ার চোখে জল দেখা যায়।
কোর্তোয়া বলেন, “আমি খেলা চালিয়ে যেতে চেয়েছিলাম, কিন্তু কোচ শতভাগ ফিট কাউকে চেয়েছিলেন। আমি আরও ৫-১০ মিনিট খেলার চেষ্টা করতে চেয়েছিলাম কারণ গোলপোস্টের নিচে আমি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছিলাম এবং সেভ করতে আমার কোনো সমস্যা হচ্ছিল না। শুধু দীর্ঘ কিক নিতেই সমস্যা হচ্ছিল।”
কোর্তোয়া মাঠ ছাড়ার ২০ মিনিটের মাথায় বেলজিয়াম বড় বিপর্যয়ের মুখে পড়ে। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ২৪ বছর বয়সী গোলরক্ষক সেন ল্যামেনস একটি সহজ বল ধরতে গিয়ে ভুল করে বসেন। স্পেনের পাউ কুবারসির নেওয়া একটি শট তার হাত ফসকে পেনাল্টি বক্সে পড়ে যায়। দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে সেই বলে গোল করেন মিকেল মেরিনো। এই গোলটিই স্পেনকে ২-১ ব্যবধানে জয় এনে দেয় এবং তাদের সেমিফাইনালে পৌঁছে দেয়, যেখানে তারা ফ্রান্সের মুখোমুখি হবে।
৩৪ বছর বয়সী কোর্তোয়ার জন্য এটি ছিল বিশ্বকাপের মঞ্চে তার ক্যারিয়ারের শেষ হতে পারে এমন এক বেদনাদায়ক মুহূর্ত। অন্যদিকে, ল্যামেনসের জন্য এটি ছিল বিশ্বকাপে অত্যন্ত নিষ্ঠুর এক অভিজ্ঞতা। বেলজিয়ামের ডিফেন্ডার ব্র্যান্ডন মেচেলে বলেন, “এটি তার জন্য একটি শিক্ষার মুহূর্ত। বলটি সহজ ছিল না এবং সম্ভবত তার চোখের সামনেই লাফিয়ে ওঠে। আমরা ডিফেন্ডাররা তাকে আরও সহায়তা করতে পারতাম।” কোর্তোয়াও তার সতীর্থকে সমর্থন জানিয়ে বলেন, “সে একজন শক্তিশালী মানুষ। আমি নিশ্চিত সে এই ধাক্কা কাটিয়ে উঠবে।”
ম্যাচের আগে বেলজিয়ামের জন্য পরিস্থিতি সহজ ছিল না। দলের অধিনায়ক ইউরি টিলেম্যানস ওয়ার্মআপের সময় চোটে পড়ে ছিটকে যান। এছাড়া রাউন্ড অব ১৬-এ যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ম্যাচে হাঁটুতে চোট পাওয়ায় আমাদৌ ওনানা আগে থেকেই দলের বাইরে ছিলেন।
তবে অভিজ্ঞ কেভিন ডি ব্রুইন, রোমেলু লুকাকু এবং তরুণ জেরেমি ডোকু ও চার্লস ডি কেটেলারদের সমন্বয়ে বেলজিয়াম দারুণ লড়াই করে। স্পেন বল দখলে এগিয়ে থাকলেও বেলজিয়ামের রক্ষণভাগ ছিল বেশ গোছানো। ৪১তম মিনিটে ডি ব্রুইন ও ক্যাস্টাগনের সহায়তায় চার্লস ডি কেটেলার গোল করে বেলজিয়ামকে সমতায় ফেরান। দীর্ঘ ৬৪৯ মিনিট পর বিশ্বকাপে স্পেনের জালে এটিই ছিল প্রথম গোল।
ম্যাচের শেষ দিকে বেলজিয়াম গোল শোধের সুযোগ পেলেও তা কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়। যদিও কোনো ট্রফি ছাড়াই তাদের ফিরতে হচ্ছে, তবে গত চারটি বিশ্বকাপের মধ্যে তিনবারই কোয়ার্টার ফাইনাল বা তার পরের ধাপে পৌঁছানো বেলজিয়ামের জন্য একটি গর্বের অর্জন। কোর্তোয়া বলেন, “বড় টুর্নামেন্টগুলোতে আমরা সবসময়ই ভালো করেছি। আমাদের ‘গোল্ডেন জেনারেশন’ নিয়ে অনেক সমালোচনা হয়, কিন্তু আমরা বেলজিয়াম। আমরা স্পেন, ইংল্যান্ড বা ফ্রান্স নই।”
